দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য সমান নিরাপত্তা প্রোটোকল বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি।
একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন এবং আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সভায় মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। আমাদের অগ্রাধিকার যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি দেশের বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী কমিটির ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
সভায় কমিটির সহসভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের অনিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্ক্যানার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি মজুত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিমানবন্দরে আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”
সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর মধ্যে ছিল—সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ।
এ ছাড়া সভায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার, গাড়ি স্ক্যানিং ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় (ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভা থেকে যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।








