পূবালী ব্যাংক বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচিত একটি ব্যাংক এবং পূবালী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরের একদম প্রথম প্রজন্ম ব্যাংক।
সে সময় যারা উদ্যোক্তা ছিলেন তারা বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে, দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পেছনে অবদান রেখে গেছেন। সেই বিষয়ে কথা বলা হয় পূবালী ব্যাংকের ডিরেক্টর এবং সিইও মোহাম্মদ আলীর সাথে। সেই ধারাবাহিকতায় আপনি আসার পর ব্যাংকটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। আপনি আসার পরে ব্যাংকটির অবস্থা এখন কী?
মোহাম্মদ আলী: যদি পূবালী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থার কথা চিন্তা করি, এটা আসলে অনেকগুলো প্যারামিটারে আমাদের দেখতে হয়। ফিনান্সিয়াল পার্ট আছে, গভর্নেন্সের পার্ট আছে, কাস্টমারের সাইট থেকে কাস্টমার সার্ভিস এন্ড কনফিডেন্সের পার্ট আছে। আমরা এই তিনটা জায়গাতেই আসলে ইম্পর্টেন্স দেয়া চেষ্টা করি। নট অনলি ফিনান্সিয়াল পার্ট।
গভর্নেন্সের পার্ট এবং সেই সাথে কাস্টমার সার্ভিস এবং তাদের কনফিডেন্স কাস্ট এই তিনটা প্যারামিটারেই আমরা সব সময় নাম্বার ওয়ান অথবা নাম্বার টু। আমরা যেটা দাবি করি। আমরা যদি ফিনান্সিয়াল পার্টের কথা চিন্তা করি, অপারেটিং প্রফিটের কেউ কেউ বলছে যে নাম্বার ওয়ান। এখনো তো ফাইনাল রিপোর্ট বের হয় নাই। নেট প্রফিটের নাম্বার ওয়ান বা নাম্বার টু। ডিপোজিটের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের পরেই আমাদের ডিপোজিট। আমাদের দেশের এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নন পারফর্মিং লোন। সেই জায়গাতে আমাদের সবচেয়ে কম। যত ভালো ব্যাংকগুলোর নাম শুনেন, তার চেয়ে। এবং আমরা তিনের নিচে এই লোনটাকে ম্যানেজ করতে পেরেছি। আরেকটা বিষয়, যে পরিবেশ আমরা আমাদের ব্যাংকিং এর মধ্যে তৈরি করতে পেরেছি, গভর্নেন্স। সেইখানে বোর্ড যেমন সেগ্রিগেশন হয়েছে পলিসি থেকে, ম্যানেজমেন্টও প্রতিটা ইউনিটকে ইন্ডিপেন্ডেন্স দিয়েছে।
তাঁদের যে পলিসি এপ্রুভ আছে, তারা যেন তাদের পুরোপুরি এক্সারসাইজ করতে পারে। আরেকটা বিষয় হলো, কাস্টমারদের জন্য আমরা কিন্তু একটা স্ট্রেটেজি নির্ধারণ করেছিলাম ২০১২ সালে। সেটা ছিল, প্রোভাইডিং কাস্টমার সার্ভিস লাইফ লং। তার মানে, যে কাস্টমার আমাদের সাথে ইন করবে তাকে লাইফ লং হিসেবে আমরা যেন সার্ভিস দিতে পারি। কোনভাবেই যেনো আমাদের থেকে ছেড়ে চলে না যায়। এটার জন্য কিন্তু আমরা ম্যাসিভ কাজ করি। দেখবেন, যেখানে যাবেন সেখানে পূবালী ব্যাংকের শাখা। সবগুলো শাখা রেনোভেশন করা হয়েছে। টেকনোলজিক্যাল জায়গায় সুপ্রিমেসি নেয়া হচ্ছে।

অপারেশনাল এক্সেলেন্সে হিউম্যান রিসোর্সের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হয়েছে। কারণ সরকারি ব্যাংক ছিল এক ধরণের মাইন্ডসেট ছিল। তারপরে সরকারি ব্যাংকারের কারণে এক ধরণের আসবাপত্র ছিল। সব চেঞ্জ করতে হয়েছে। এবং ট্রেনিং দিতে হয়েছে। প্রতিবছর এখন আমরা ৪ হাজার ৫ হাজার ব্যাংকারকে ট্রেনিং দিয়ে থাকি। প্রতিবছর একদম কন্টিনিউয়াসলি।
অনেক মডিউলে ট্রেনিং করা হয় এবং সেই ক্ষেত্রে হসপিটালিটি সার্ভিস থেকেও নিয়ে আসা হয়। যারা মার্কেটিং অরিয়েন্টেড আছেন তাদের কাছে থেকে নিয়ে আসা হয় এই জায়গাগুলোতে। সো দ্যাট তারা যেন মনে করে আমাদেরকে কাস্টমারদেরকে এইভাবে সার্ভিস দিতে হবে। এমপ্লয়িদেরকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সাংঘাতিকভাবে। আপনি যদি দেখেন যে ক্রিটিক্যাল সময়ে আমরা সবচেয়ে বড় পে স্কেল দিয়েছি। তারপরে ছয়টা করে আমরা ইনসেন্টিভ বোনাস দিয়ে থাকি। এইরকম বিভিন্ন কাজগুলো আমরা আসলে এই এমপ্লয়িদের জন্য করেছি, যেন এমপ্লয়িরা টার্নওভারে থাকে।
আমরা প্রথম পলিসি তৈরি করে করেছিলাম কাস্টমার সেন্ট্রিক, লাইফলং। কিন্তু আমরা দেখছি কাস্টমাররা যেমন থাকছে তেমনি আমাদের এমপ্লয়িরাও চলে যাচ্ছে। আবার আমরা দেখছি আমার শেয়ারহোল্ডার যারা আছে তারাও আমাদের সাথে রয়ে যাচ্ছে লাইফলং। সেই ৫৯ সালে যেই শেয়ারহোল্ডাররা এসেছিলো, তাদের প্রজন্ম টু প্রজন্ম কিন্তু আমাদের সাথে রয়ে গেছে।
মোহাম্মদ আলীকে প্রশ্ন করা হয় আপনার কথা ধরে একটু বলতে চাই, আপনাদের ৫০৮টি শাখা এবং উপশাখা আছে। ভবিষ্যতে ক্যাশলেস ব্যাংকিং হয়ে যাবে। এই সমস্ত শাখা টাকা হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তারপর আপনারা যে ট্রেডিশনাল ব্যাংকিং করে করে সারা বাংলাদেশে এত শাখা নিয়ে কাজ করছেন এবং সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনারা মডার্ন প্রেজেন্টেশনে অনেক পিছে আছেন। মানে বিশেষ করে কয়েকটি ব্যাংক যে খুবই মডার্ন প্রেজেন্টেশনে আছে।
বর্তমানে বেশ কিছু ব্যাংকের থেকে প্রচার প্রচারণায় আপনারা পিছিয়ে আছেন। কিন্তু আপনারা কিন্তু আপনার মুখে শুনলাম যে আপনারা নাম্বার ওয়ান। যদি গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের বিষয়ে আমরা জানতে চাই সেক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংক কোন অবস্থায় আছে বলে মনে করেন?
মোহাম্মদ আলী: ওই যে বললাম যে পূবালী ব্যাংকের যাত্রাপথ এতটা মসৃণ ছিল না। প্রথমে ব্যাংকটি প্রাইভেট ভাবে তৈরি হয়েছে। পরে সরকারীকরণ হয়েছে। যখন সরকারীকরণ করা হয়েছে তখন তো ক্লাসিফাইড লোন হয়ে গেছিল ৫৪ পারসেন্ট। সেইখান থেকে ব্যাংক প্রবলেমে পড়ে গেছে।
২০০৫ এ পূবালী ব্যাংক প্রবলেম ব্যাংক থেকে বের হয়। ২০০৭ এ বাংলাদেশ ব্যাংক অবজার্ভেশন তুলে নেয়। আমাদের ডিজিটাইজেশন শুরু হয় ২০০৮ থেকে। আর যাদেরকে বলছেন তাদের ডিজিটাইজেশন শুরু হয় ৯৪-৯৫ সাল থেকে। তার মানে আমরা এখানে কিন্তু ১২-১৩ বছর পিছিয়ে গিয়েছিলাম। আমরা কি করেছি উই স্টার্টেড লেট বাট এমন ভাবে প্রোগ্রেস করেছি যেন আমরা খুব তাড়াতাড়ি অনবোর্ড তাদের সমান হতে পারি অথবা তাদেরকে সারপ্লাস হতে পারি।
এই জায়গাগুলোতে আমাদের টেকনোলজি সুপ্রিমেসিটা নিয়ে যেতে পেরেছি। এইটা তো খুব বড় একটা কাজ। তারাও আগাচ্ছে সামনের দিকে। আমাদেরকেও আগাতে হচ্ছে সামনের দিকে। এই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে কিন্তু আমাদেরকে কাজ করতে হচ্ছে। যেমন আমরা পজ মেশিন যদি দেখেন দোকানে মার্চেন্টের ক্ষেত্রে, সবাই শুরু করেছে অনেক বছর আগে। আমরা কিন্তু করেছি গত বছর এক বছরে। আমরা দিয়েছি ১২ হাজারের এর উপরে পজ মেশিন। এক বছরে পুবালি ব্যাংক পাঁচটা ব্যাংকের মধ্যে চলে আসছে। এক বছরে এই কাজ আমরা প্রতিটা সেক্টর ধরেছি। এবং আমরা দেখেছি কী! ব্যাংকের এখন হাইয়েস্ট পজ আছে। এই বছরেই আমার এটা ২০ হাজারের এর কাছাকাছি চলে যাবে।
তার মানে আমি থার্ড পজিশনের মধ্যে ঢুকে যাব। এরপরে আমি আশা করছি যে আর দুই বছরের মধ্যে আমি এটাকে নাম্বার ওয়ানে নিবো। ঠিক এরকম আমার পাই ব্যাংকে। ধরেন চার বছর আগে থেকে আমার পাই ব্যাংক ছিল। এই যে রিটেল কাস্টমার, এই বছর আমরা ৬০ হাজার কোটি টাকা অ্যাচিভ করেছি। এবং এই বছর এক্সপেক্ট করতেছি যে এটা এক লক্ষ কোটি টাকার উপরে চলে যাবে।
যদি আমরা মনে করি যে এটা আসলে ব্যাংকের ট্রান্জেকশনের সামনে কিছু না। তো আমাদের এক্সপেক্টেশন হচ্ছে এটা দুই তিন বছরের মধ্যে আমরা এটাকে টার্নিং করে ১০ লক্ষ ১৫ লক্ষ কোটি টাকার একটা অ্যাপসে নিয়ে যাব। তখন কিন্তু যারা এমএফএস দেখতেছেন নিজের ট্রান্জেকশনের অ্যামাউন্টে, আমরা ফাইট করবো। ওরা তো ছোট ট্রান্জেকশন করে, আমরা বড় ট্রান্জেকশনে যাবো।
মডার্ন ব্যাংকিং নিয়ে আমি আরও একটু পরে কথা বলবো আমি একটু বেশি নিয়ে বলতে যাচ্ছি আমরা না দেখি অনেক সুন্দর ব্যাংক অনেক পরিচিত ব্যাংক অনেক বিখ্যাত ব্যাংক নামে পরিচিত কিন্তু তাদের ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে চলে এবং অনেক ব্যবসায়ী এই মুহূর্তে আমি দেখছি।
আজ মিডিয়া কর্মী হিসেবে জার্নালিস্ট এমন কোন ব্যবসায়ী নাই যে তারা ব্যাংকে ২-৪ জন দেখছি আমার খুব কাছের একজন বড় ব্যবসায়ী সে ১২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছে আমার খুব কাছের একজন ব্যবসায়ী।
আমার ২০০ কোটি টাকার টাকাই বিষয়টা হচ্ছে কি যে আমি বলছি ইসলামী ব্যাংক গ্রুপ বাদ দিয়াও যদি আমরা বলি। ন্যাশনাল ব্যাংকের কথা বলি কিংবা আরও নামগুলো বলতে চাচ্ছি অনেকগুলো ব্যাংকেই হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ীরা নিয়ে চলে যাচ্ছে এবং সেটা বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের যোগ চাল বোর্ড অফ ডিরেক্টরাই হেল্প করছে।







