ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে ইরান। হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে ৫ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি ভিত্তিতে সভা ডাকার আহবান জানিয়েছে ইরান।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাসরুল্লাহর মৃত্যুকে ঐতিহাসিক মোড় ঘুরানো ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এই হত্যাকাণ্ডকে ন্যায়বিচারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত সোমবার থেকে লেবাননে ব্যাপক মাত্রায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার পর এখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ইরান। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, এখন কীভাবে জবাব দেবে তেহরান।
হিজবুল্লাহ এখন কী করবে?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মেদ আল-বাশা বলেছেন, হাসান নাসরুল্লাহকে হারানোর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। গোষ্ঠীটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদে এর রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল পরিবর্তন করবে।
তবে ইসরায়েল বিরোধী এই সংগঠনটি হুট করে ক্ষ্যান্ত দেবে এমন প্রত্যাশা কিংবা ইসরায়েলের চাওয়া অনুযায়ী শান্তির পথে আসবে তা সম্ভবত হবে না।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মতো অস্ত্র আছে হিজবুল্লাহর, যা তেল আবিব ও অন্য শহরগুলোতে পৌঁছাতে পারে। নিজেরা আরও ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিণত হওয়া বা নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগে সেগুলো ব্যবহারের জন্য গোষ্ঠীটির ভেতরে চাপ বাড়ছে।
ইরান কী করবে?
তেহরানের গেস্ট হাউজে ইসমাইল হানিয়ার অপমানজনক হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ ইরান এখনও নিতে পারেনি। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের বেশ কিছু সশস্ত্র সহযোগী গোষ্ঠী আছে।
হিজবুল্লাহর মতো ইয়েমেনে আছে হুতি এবং ইরাক আর সিরিয়ায় আছে কয়েকটি গোষ্ঠী। ইরান এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলে এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে হামলা করতে বলতে পারে।
কিন্তু যেই পদক্ষেপই ইরান নিক না কেন সেটি হবে যুদ্ধের জন্য বন্দুকে চাপ দেয়ার মতো, যাতে তারা জয়ের খুব একটা আশা করতে পারে না।
ইসরায়েল কী করবে?
যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি রাষ্ট্র একুশ দিনের যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে সে অনুযায়ী সামরিক অভিযান বন্ধ করার কোন লক্ষ্য পরিষ্কারভাবেই ইসরায়েলের নেই।
তাদের সামরিক বাহিনী মনে করে হেজবুল্লাহ এখন ব্যাকফুটে। সুতরাং ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি পুরোপুরি না যাওয়া পর্যন্ত তারা আরও আক্রমণ চালাতে চায়।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স অবশ্য সীমান্তের কাছে তাদের পদাতিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তবে সবশেষ যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ আঠার বছর সময় ব্যয় করে পরবর্তী যুদ্ধের পর প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
মৃত্যুর আগে সবশেষ বক্তৃতায় নাসরুল্লাহ তার অনুসারীদের বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অনুপ্রবেশ হবে ‘একটি ঐতিহাসিক সুযোগ’। আইডিএফের জন্য লেবাননে যাওয়া সহজ হবে কিন্তু গাজার মতো বেরিয়ে আসতে হলে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।







