জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জুলাই ঘোষণাপত্র ও ড. ইউনূসের ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির আশাবাদ, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ সুগম হবে।
আজ (৬ আগস্ট) বুধবার সকাল ১১টায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। সেই সংগ্রামে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় ভোটাধিকার হরণ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ৫ আগস্ট দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ওই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে, যার লক্ষ্য ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন করা।

তিনি বলেন, গতকাল ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, বিএনপি তা স্বাগত জানায়। আমরা বিশ্বাস করি এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবিকতা, সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি নতুন, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি হবে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকেও ইতিবাচকভাবে নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বৈঠকে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ সুগম করবে।
তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণকে নির্বাচনকে সফল করে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, আহতদের প্রতি সহানুভূতি ও সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
তিনি শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। সংবাদের শেষাংশে বিএনপি মহাসচিব তারেক রহমানকে আট বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির জন্য।
তিনি বলেন, আসুন আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং আধুনিক নেতৃত্বের প্রতীক তারেক রহমানের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।








