হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনার পর পশ্চিমা নেতারা দ্রুত ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজ ১ মার্চ শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকটি ওয়াশিংটন এবং তার প্রধান মিত্রদের মধ্যে গভীর বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় নেতারা বুঝতে পারছেন না কেন ট্রাম্প হঠাৎ জেলেনস্কির বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান নিয়েছেন এবং আলোচনার আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাড় দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্কের পর দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন এবং ইউক্রেনের প্রতি তার অটল সমর্থন জানিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্টারমার ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, যেন এমন কোনো শান্তিচুক্তি না করা হয় যা রাশিয়া বা তার মিত্রদের পুরস্কৃত করে।
রোববার যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় নেতাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইউক্রেনের জন্য সমর্থন নিয়ে আলোচনা হবে। জেলেনস্কি এ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সমর্থন পেতে পারেন।
ইতালি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হোয়াইট হাউসের ঘটনাকে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি বাড়ানোর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বিভক্তি পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানকে দুর্বল করছে।
ফ্রান্স
জেলেনস্কি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গেও কথা বলেছেন। ম্যাক্রোঁ এক বিবৃতিতে বলেন, এখানে একজন আগ্রাসী রয়েছে, আর সেটি রাশিয়া। এবং এখানে আক্রান্ত একটি দেশ রয়েছে, সেটি ইউক্রেন।
জার্মান
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইউক্রেনের চেয়ে বেশি কেউ শান্তি চায় না। আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ বের করতে কাজ করছি। ইউক্রেন জার্মানি এবং ইউরোপের ওপর নির্ভর করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস এক বিবৃতিতে বলেন, স্পষ্টতই মুক্ত বিশ্বকে এখন নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জেলেনস্কিকে শক্ত অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
লিথুয়ানিয়া
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিটানাস নউসেদা বলেন, ইউক্রেন, তোমাদের কখনো একলা চলতে হবে না।
এস্তোনিয়া
এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস ছাখনা সতর্ক করে বলেন, যদি ইউক্রেন লড়াই বন্ধ করে, তবে ‘ইউক্রেন’ বলে কিছু থাকবে না।
কানাডা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ইউক্রেনের প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রাশিয়া অবৈধভাবে এবং অন্যায্যভাবে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে। তিন বছর ধরে ইউক্রেনের মানুষ সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করছে। তাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, আমরা যতদিন প্রয়োজন, ততদিন ইউক্রেনের পাশে থাকব। কারণ আমরা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে একটি লড়াই হিসেবে দেখি।
নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসনও ইউক্রেনের প্রতি তার দেশের অটল সমর্থন ঘোষণা করেছেন।
হাঙ্গেরি
পশ্চিমা ও ইউরোপীয় নেতাদের এই ঐক্যের মধ্যে একটি ব্যতিক্রম ছিলেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, শক্তিশালী নেতারা শান্তি স্থাপন করেন, দুর্বল নেতারা যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন। আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তির জন্য সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন, যদিও এটি অনেকের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। ধন্যবাদ, মিস্টার প্রেসিডেন্ট!
এই সংকটে পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও, ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। তবে, এই সংকটের সমাধান কীভাবে হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।







