আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাকের আলী অনিকের অভিষেক আট মাসও পেরোয়নি। এরমধ্যেই টি-টুয়েন্টিতে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নিজেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন। লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন। তবুও অল্পসময়েই উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রথম পছন্দ তিনি। বিশ্বমঞ্চে নামার আগে দেখাচ্ছেন অনেক আশা, আশা রাখছেন নিজেও।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতে চলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলের সঙ্গে থাকা কোচ এবং খেলোয়াড়রা জানাচ্ছেন ভাবনা। মঙ্গলবার বোর্ড প্রকাশিত ভিডিওতে কথা বলেছেন ২৬ বর্ষী অনিক। বিশ্বকাপে দলের অর্জনের খাতা ভারি করার প্রত্যাশার কথা বলেছেন। প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বনের কথাও জানালেন।
‘অবশ্যই ইচ্ছা থাকবে, আগে যে অর্জনগুলো আমরা করতে পারিনি, এবছর যেন আমরা এরকম কিছু অর্জন করতে পারি। আগে যা কখনো হয়নি।’
‘যখনই শুনলাম স্কোয়াডে আছি, তখন থেকে একের পর এক ম্যাচ দেখা শুরু করে দিয়েছি। কার সাথে কীরকম খেলতে হবে, কোন প্রতিপক্ষের সাথে কীরকম কৌশল হওয়া উচিৎ, আমি ওইরকম চিন্তা-ভাবনা করে আগাচ্ছি।’
‘আমি চাই দল হিসেবে আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচে ধাপে ধাপে ভালো পারফরম্যান্স করবো, জিতব। নিজের দেশের জন্য বড় কিছু করবো। সবসময় মনের ভেতর থাকছে যে, দেশের জন্য ভালো কিছু করতে হবে।’
দেশের হয়ে খেলাটাকে সবসময় বড় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ডানহাতি ব্যাটার বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভালো করতে মরিয়া। কীভাবে শুরু হয়েছিল ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার পথচলা, হবিগঞ্জ থেকে উঠে আসা অনিক শুনিয়েছেন সেই গল্পও।
‘ক্রিকেটে আসার গল্পটা সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখেই এসেছে। ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটটা খুব ভালোভাবে অনুসরণ করি। তখন থেকেই আসলে ইচ্ছা ছিল যে, বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলবো। বিশেষ করে ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ওয়ানডে) বিশ্বকাপ যেটা, তখন থেকে ক্রিকেটটা ভালো করে বুঝি। তখন থেকেই আমার ক্রিকেটটার প্রতি ভালোবাসা।’
‘আমি ২০১০ সালে বিকেএসপিতে ট্রায়াল দেই। বিকেএসপিতে আসার পরই স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে বড় হয়। আসলে শুরুতে স্বপ্ন এতো বড় ছিল না। যখনই এসে বড় ভাইদের দেখলাম, কাছে থেকে দেখলাম আর ভাবলাম, না স্বপ্নগুলো আসলে বড় করতে হবে। যদি হবিগঞ্জে বসে থাকতাম, আমার কাছে মনে হয় না এতদূর আসতে পারতাম।’
পরিবারের সবার অকুণ্ঠ সমর্থন, গর্বিত মায়ের স্বপ্নপূরণ, পরপারে চলে যাওয়া বাবার স্মৃতিচারণও উঠে এসেছে। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর সিনিয়র ক্রিকেটারদের স্বাগত জানানোটা তার কাছে খুব বিশেষ ভালোলাগার মুহূর্ত ছিল বলে জানালেন।
‘আমার আম্মার স্বপ্ন ছিল, দেশের হয়ে খেলবো। সবসময় বলতো যে তোর তামিম ভাই, তোর সাকিব ভাই, তোর মাশরাফী ভাইদের টিমে কবে তুই খেলবি? এটাই আমার আম্মার সবসময় স্বপ্ন থাকত। এখন আসলে আম্মা এই জিনিসগুলা খুব গর্ব অনুভব করে।’
‘আব্বা যতদিন ছিলেন, মাঠে বসে থাকতেন। আব্বা যখন থাকত না, আমার বোন মাঠে নিয়ে যেত। সবচেয়ে বড় কথা আমার বড় ভাইকে দেখে আমার ক্রিকেট খেলাটার প্রতি আরও বেশি আগ্রহ আসে। যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখা শুরু করি, ওই সময়ে আমার ভাইও ক্রিকেট খেলত। দুইয়ে মিলে আমার সমর্থনটা আরও ভালো এসেছে।’








