আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটাই হয়ে উঠেছিল অনিশ্চিত। যদিও ক্রিকেটীয় সামর্থ্য ও ফর্ম নিয়ে কখনোই প্রশ্ন ছিল না। যদিও উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড তাকে দীর্ঘ সময় বিবেচনায় নেয়নি। দুই বছরেরও বেশি সময় পর আবারো ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠলেন ৩৫ বর্ষী অলরাউন্ডার। আর তাতেই ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা।
ব্রিজটাউনে মঙ্গলবার টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংলিশরা ১৯.৩ ওভারে ১৭১ রানে অলআউট হয়। জবাবে স্বাগতিকরা ১১ বল হাতে থাকতে ৬ উইকেট খুইয়ে জয় নিশ্চিত করে।
উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৭৭ রান যোগ করে ইংল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ফিল সল্ট ও অধিনায়ক জস বাটলার। ২০ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান করা সল্টের বিদায়ে জুটি ভাঙে। রাসেলের বল ক্যাচ নেন শিমরন হেটমায়ার। তিনে নামা উইল জ্যাকস আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ৯ বলে ২ ছক্কায় ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
বাটলার ৩১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রানে বিদায়ের পর সফরকারীদের রানের গতি কমতে থাকে। উইন্ডিজ বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে তুলতে থাকেন উইকেট। ছয় নম্বরে নামা লিয়াম লিভিংস্টোন ১৯ বলে এক চার ও ২ ছক্কায় ২৭ রান করার পর রাসেলের বলে বোল্ড হন। শেষ দিকে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। মাত্র ৬ রান যোগ করতেই শেষ ৫ উইকেট হারায়।
রাসেল ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে রাসেল জানান দেন তিনি ফুরিয়ে যাননি। ৩.৩ ওভারে অতি খরুচে আলঝারি জোসেফ ৫৪ রান রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট পান। রোমারিও শেফার্ড নেন ২ উইকেট।
১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩২ রানে হারায় প্রথম উইকেট। ব্র্যান্ডন কিং ১২ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রানের ইনিংস খেলে ক্রিস ওকসের শিকার হন। আরেক ওপেনার কাইল মায়ার্স ছিলেন আক্রমণাত্মক। ২১ বলে ৪ ছক্কায় ৩৫ রান করে আদিল রশিদের বলে হ্যারি ব্রুকের তালুবন্দি হন।
দলীয় স্কোর ১০০ ছুঁতেই ফেরেন নিকোলাস পুরান। খানিক পর শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে দশম ও ইংল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ উইকেট শিকার করেন আদিল রশিদ।
১২.৪ ওভারে উইন্ডিজের স্কোর ৪ উইকেটে ১০৮ রানে থাকা অবস্থায় বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকে। খানিক পর বল মাঠে গড়ানোয় ওভার কাটা যায়নি। শাই হোপ ৩০ বলে ৩৬ ও শেফার্ড রানের খাতা না খুলে করে বিদায় নেয়ার সময় ক্যারিবীয়দের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩২ বলে ৪৯ রান। এ সময় বাইশ গজে ঝড় তুলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ও রাসেল।
আট নম্বরে নামা ম্যাচ সেরা রাসেল ১৪ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। রোভম্যান ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ইংলিশদের হয়ে ৩৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন রেহান আহমেদ। আদিল পান ২ উইকেট।







