জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংস্কারের উপর যে গণভোট হয়েছে এটার পুরাটাই মানতে হবে। এর কোন খন্ডিত অংশ আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই না।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশটা সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে এক দল সরকারি, আরেকটা বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না, মিনিমাম দুই চাকা লাগে। সরকারি দল যদি ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করে সেখানে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরা জনগণের পক্ষে অবস্থান নেব। এবং আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ারকাট।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের সময় আমরা যে কথাগুলো বলেছি। এগুলো আমাদের মুখের কথা ছিল না, ছিল বুকের কথা। তিন শর্ত আমরা চাইবো সবাই মানুক। নাম্বার ওয়ান- এই সোসাইটি আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত, দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দুই নাম্বার হচ্ছে- বিচার বিভাগ বিচার বলতে কিছুই নেই। দেখেন না, এতগুলো ঋণ খেলাপি কিভাবে (সংসদ নির্বাচনে) চান্স পায়। এদের হাতে কিভাবে দেশ নিরাপদ হবে, হবে নাতো। কারণ এরা তো সব সময় নিজের স্বার্থ দেখে। এই জায়গাটাই (সংসদে) এমন মানুষ যাওয়া দরকার যে নিজের স্বার্থ দেখবে না ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে। ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখলে কেউর ঋণ খেলাপি হয় না। ঋণ খেলাপি হলে আবার কিভাবে নেতা হতে চায়। লজ্জিত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আমার পকেটে ঢুকে আছে আমি দিতে পারছি না। কারো উপর সামান্য অবিচার হলেই কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করব। এমনকি সরকারি দলের কারো উপরও অবিচার হলেও আমরা প্রতিবাদ করব। অবিচার আমরা মেনে নেব না কোন অবস্থাতেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনা হলে দেশ ও জাতির স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তা হবে।
বিরোধী দলে থাকলে কেমন ভূমিকা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি দলটি এখন কার্যত ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের আস্থা হারিয়েছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে জনগণের স্বার্থই প্রধান হওয়া উচিত এবং যে কোনো সিদ্ধান্তে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঞা, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী এবং ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ।
এর আগে তিনি সকাল ৮টায় সড়কপথে কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সকাল ১০টার দিকে নিকলী উপজেলার শিমুলবাঁক এলাকায় নিহত জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় আরেক জামায়াত কর্মী আব্দুস সালামের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন।
এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়েছিল।








