যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, আমরা কোনো প্রকার সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নই। বাংলাদেশের মুসলমান শান্তিপ্রিয় মুসলমান। আমরা কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভেতর নেই।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অবৈধ আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে বিএনপির তিন অঙ্গসংগঠনের স্মারকলিপি দেওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন।
যুবদল সভাপতি বলেন, যারা আগরতলায় বাংলাদেশের হাইকমিশনে ভাঙচুর করেছে এবং পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা আমরা আগেই জানিয়েছি। ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণার প্রতিবাদে আজকে আমাদের স্মারকলিপি কর্মসূচি ছিল। আজকে আমরা ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে আমাদের প্রতিবাদের স্মারকলিপি পৌঁছে দিয়েছি ।
মোনায়েম মুন্না বলেন, আমাদের বক্তব্য খুবই পরিষ্কার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো কিছু হলে বিএনপিসহ সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তার এই কথার প্রতিধ্বনিতে আজকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল রাজপথে করেছে। আমাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। আমরা কোনো প্রকার সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নই। বাংলাদেশের মুসলমান শান্তিপ্রিয় মুসলমান। আমরা কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভেতর নেই।
তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে ইসকন যেভাবে একজন আইনজীবীকে হত্যা করেছেন, তা খুবই নিন্দনীয়। তবে এই ঘটনার পরও বাংলাদেশের মানুষ সর্বোচ্চ ধৈর্যশক্তি দেখিয়েছে। কিন্তু ভারতে প্রতিনিয়ত মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এই উগ্রবাদীদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্তে যারা হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রতি আমরা প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করতে চাই। ইতোমধ্যে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশের বাইরে আমাদের কোনো প্রভু নেই, কিন্তু বন্ধু আছে। আমরাও এই একই সুরে বিশ্বাসী, আমরা বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী চাই।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোন ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবো।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শান্তিরক্ষা মিশন বিষয়ে জ্ঞান না থাকলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ও বরখেলাপ বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের জনগণের কথা যুবদলের, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কথা আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা আমরা জানিয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের প্রতিবাদ দিয়ে আমরা এই পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান শেষ করেছি।
এরআগে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, জাতীয় পতাকার অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
পদযাত্রায় নেতাকর্মীদের ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘এক জাতি এক দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘ওয়াসিম-সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ‘স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়’, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নয়’, ‘সবার উপরে দেশ, আমার প্রিয় বাংলাদেশ’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।
পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে অস্থায়ী মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।








