এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে থাকায় শেরপুর জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। ভেঙেছে ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট ও ডুবে হেছে ফসলি জমি। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে বন্যাকবতিরা।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণ তৎপরতা থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সেইসাথে ডায়রিয়া, আমাশয়, চুলকানিসহ পানিবাহিত নানা রোগব্যধি দেখা দিয়েছে।
যদিও সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বন্যাকবতি এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, মেডিকেল স্টুডেন্ট, চিকিৎসকসহ ৪টি মেডিকেল টিম ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় কাজ করছে।
সরেজমিনে নকলা উপজেলার পিছলাকুড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভোগাই নদীর তীরে জেলেপল্লীতে ৪০টি হিন্দু পরিবারসহ প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ি ঢলে ওই এলাকার অনেকের বাড়ি-ঘর, জিনিসপত্র, ফসসি জমি সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।
গত ৬ দিন পানিবন্দি থাকার পর ঢলের পানি গত বুধবার থেকে নামতে শুরু করেছে। ঢলের পানি ওঠায় মন্দিরে হিন্দু পরিবারগুলো এবার দূর্গাপূজাও করতে পারেননি। ঘর-বাড়ি থেকে পানি নামলেও তাদের দুর্ভোগ কাটেনি। এখনও ক্ষেতখোলায় ঢলের পানি আটকে রয়েছে।
গ্রামের ভেতর দিয়ে চলাচলের জন্য পিছলাকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাড়াকান্দা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি ঢলের পানিতে জায়গায় জায়গায় ভেঙে গর্ত হয়ে রয়েছে। এতে চলাচলে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পিছলাকুড়ির জেলে পরিবারগুলো কষ্টে থাকলেও অদ্যাবধি তাদের কোনো খোঁজখবর কেউ নেয়নি।
প্রশাসনের কেউই সেখানে যায়নি। একেবারের নিভৃত পল্লী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাস্তা খারাপ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারগুলোর নিকট কোন ধরণের ত্রাণ সহায়তাও পেঁছেনি।








