টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করেছে আইসিসি। বিশ্বক্রিকেট সংস্থার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ার হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেছেন, বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তাদের সরকার। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে তাহলে সম্প্রচারকারীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে মনে করেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব শো-তে বাসিত এমন জানান। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে সম্প্রচারকারীরা পথে বসবে। পাকিস্তান যদি সরে দাঁড়ায়, তাহলে কোন দল তাদের পরিবর্তে খেলবে? ভারত যদি তাদের পরিবর্তিত দলের বিপক্ষে খেলে, তাহলে কি ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের মতো একই আকর্ষণ সেই ম্যাচ ঘিরে থাকবে?’
পিসিবি চেয়ারম্যানের প্রশংসা করে বাসিত বলেন, ‘মহসিন নাকভি যা বলেছেন, তাতে দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সরকারকে জিজ্ঞাসা করব। এটা আইসিসির জন্য সবকিছু কঠিন করে তুলেছে। পাকিস্তানের উচিত হবে না বয়কট করা কারণ আমাদের ভারতে খেলতে হবে না। কিন্তু আমাদের সরকার যদি বলে, বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তাদের পাশে থাকতে হবে, তখন আমরা কী করবো?’
বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে কিনা, তা জানা যাবে আজ। লন্ডন সফর শেষে আজই লাহোরে পৌঁছানোর কথা পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। দেশে ফিরেই তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে বিশ্বকাপ ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা, আইসিসির অবস্থান এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন পিসিবি প্রধান। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। তবে অনুরোধ আমলে না নিয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করে আইসিসি। আইসিসি সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেন নাকভি।
তিনি বলেন,‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আইসিসির বোর্ড সভাতেও একই কথা বলেছি। আপনার দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না, যেখানে একটি দেশ যখন খুশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং অন্য একটি দেশের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা করা হয়। পাকিস্তানের সরকার আমাদের যে নির্দেশনা দেবে, আমাদের অবস্থানও (বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে) সেটাই হবে। প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরলে আমি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাব। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’







