কয়েকদিনের টানা অতি ভারী বর্ষণে নোয়াখালীতে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সেটি বর্তমানে জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকাগুলো থেকে ধীরে নামছে পানি। উঁচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করায় নিচু এলাকাগুলোতে পানি কিছুটা বেড়েছে। জেলায় এখনও পানি বন্দী লক্ষাধিক মানুষ।
শনিবার (১২ জুলাই) সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নোয়াখালী পৌর এলাকাগুলোর সড়ক থেকে পানি অনেকটা নেমে গেছে। তবে নিচু বাসা বাড়ির আঙ্গিনা এখনও জলাবদ্ধ।
পানি নেমে গেছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ কোর্টের সামনে থেকে। তবে শহরের অলিগলি ও সংযোগ সড়কগুলোতে এখনও কিছু পানি রয়েছে।
এদিকে জেলার সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ ও সুবর্ণচরের গ্রামীণ বেশিরভাগ সড়ক এখনও কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত। বসত ঘর থেকে কিছুটা পানি নামলেও অধিকাংশ বাড়ির আঙ্গিনায় হাঁটু পরিমাণ বা কোথাও তারও বেশি পানি রয়েছে।
গত সোমবার থেকে পানি বন্দি এসব এলাকার মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে এই জলাবদ্ধতা এখন জনদুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। অনেকটা গৃহবন্দী হয়ে আছে মানুষজন। দুর্গত এলাকার বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খাল ও ড্রেনগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না নামায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘ হওয়ার শংকা করছে লোকজন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ৪৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার মানুষ আশ্রিত রয়েছে। টানা জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর, সাড়ে ৭ হাজার একর ফসলি জমি, প্রায় ৯ হাজার গবাদি পশু ও ৪০ হাজার মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।








