পলিথিনের ভয়াবহতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে ১৫ হাজার কিলোমিটার হেঁটে ভারতের ২৭টি রাজ্য এবং বাংলাদেশের ৩৩টি জেলার ওপর দিয়ে ৮৬০ দিনেরও বেশি ভ্রমণ করার পর ভারতের শিক্ষার্থী রোহান আগারওয়াল আজ মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর শহরে এসেছেন।
এসময় তিনি দিনাজপুর প্রেসক্লাব, শিল্পকলা একাডেমীসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের কুফল সম্পর্কে প্রচারণা চালান। তিনি ভারতের গভর্নমেন্ট সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
রোহান আগারওয়াল জানান, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে গঙ্গা নদীর তীর থেকে পায়ে হাঁটা শুরু করি। সেখান থেকে নিজ দেশের রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি, চন্ডিগড়, হিমাচল, উত্তরাখন্ড, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, পন্ডিচেরি, কর্ণাটক, কেরালা ও গোয়াসহ ২৭টি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনবহুল এলাকা, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে প্লাস্টিক-পলিথিনের ক্ষতিকারক দিক ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতামুলক প্রচারনা চালিয়েছি। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার আহবান জানিয়েছি।
গত বছরের ৮ অক্টোবর ফেনীর বিলোনিয়া চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রোহান, তারপর পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের ৩৩টি জেলায় প্রচারণা চালান।
রোহান সবার উদ্দেশ্যে বলেন, এই যাত্রা শুরু করার মূল উদ্দেশ্য হল প্লাস্টিকের বিপদজ্জনক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দেয়া। আমি ভারত ও বাংলাদেশের অনেক স্কুল এবং ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছি এবং তারপর আমি সাইবেরিয়ার ওমিয়াকোমে হেঁটে যাব। যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৭২ ডিগ্রি এবং এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান। আমার আশা আমিই দক্ষিণ এশীয় হিসেবে প্রথম স্থলপথে সেখানে পৌঁছাব। সাইবেরিয়া যাওয়ার পথে আরও ৫ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার ২০টি দেশ অতিক্রম করার ইচ্ছা আছে।
গতকাল সোমবার রাতে দিনাজপুরের হিলিতে পৌছালে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, আকতার হোসেন বকুল, আব্দুল আজিজ, মোসলেম উদ্দিন, লুৎফর রহমান ও সোহেল রানা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে রোহান জানান, বাংলাদেশের মানুষ আন্তরিক ও ভালো। কেউ কোনোদিন জানতে চায়নি আমি কোন ধর্মের। মানুষ হিসেবে সবাই হেল্প করেছে। আই লাভ বাংলাদেশ। তিনি বাংলাদেশের পর মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, চীন, হংকং, ম্যাকাও, মঙ্গোলিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলার ভারতীয় এই শিক্ষার্থীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য আমাদের জীবনে ও পরিবেশের উপর মারাত্মকভাবে ক্ষতি করছে। এর ফলে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমি মনে করি রোহানের এই প্রচারণা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। তার এই পথচলায় সবার এগিয়ে আশা দরকার। তাহলে হয়তো একদিন প্লাস্টিকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।







