শ্রীলঙ্কা ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের হারের পর সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল— জিতলেই পরের পর্ব নিশ্চিত হবে নামিবিয়ার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে হেরে বিদায় নিলেন ডেভিড ভিসেরা। নামিবিয়াকে ৭ রানে হারিয়ে আসরে প্রথম জয় তুলে বিদায় নিলো আমিরাতও। অন্যদিকে, সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের।
বৃহস্পতিবার ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথম জয় পেয়েছে আমিরাত। চুনদানগাপয়িল রিজওয়ানের দল এদিন ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান জমা করে। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান পর্যন্ত যেতে পারে নামিবিয়া।
দাসুন শানাকার দল ৩ ম্যাচে ২ জয় ও এক হারে সংগ্রহ করেছে ৪ পয়েন্ট। ‘এ’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা জায়গা করে নিয়েছে সুপার টুয়েলভের এক নম্বর গ্রুপে। সেখানে আছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান, শুক্রবার গ্রুপটিতে যেত দেবে বি-গ্রুপের রানার্সআপ দলটি।
অন্যদিকে, সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে থাকা ডাচরা প্রতিপক্ষ এ-গ্রুপে খেলবে। সঙ্গী পাচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও সাউথ আফ্রিকাকে, শুক্রবার বি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলটিও যোগ দেবে এই গ্রুপে।
জিলংয়ে আমিরাতের ছোড়া দেড়শ ছুঁইছুঁই লক্ষ্যে শুরু থেকেই খাবি খায় নামিবিয়ানরা। বাসিল আহমেদ-জহুর আহমেদদের তোপে ৫০ রান তোলার আগেই ব্যর্থ প্রথম পাঁচ ব্যাটার। দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ স্টেফান বার্ড, জান নিকোল, জেজে স্মিট, জানে গ্রিন। গেরহার্ড এরাসমাসও পারেননি দলের হাল ধরতে। ব্যাট হাতে অধিনায়ক আনেন ১৮ বলে ১৬ রান।
সপ্তম উইকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটার গ্রিন ফিরলে বাকিটা পথ লড়াই চালিয়ে যান ডেভিড ভিসে। ছোট দলের বড় তারকাখ্যাত ভিসে শেষপর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও কাজের কাজটা আর হয়নি। বিশতম ওভারের চতুর্থ বলে ফেরার আগে ভিসে ৩৬ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় খেলেন ৫৫ রানের ইনিংস। ভিসের সঙ্গে ৭০ রানের জুটিতে ২৪ বলে ২৫ রান এনেও হার এড়াতে পারেননি রুবেন ট্রাম্পেলম্যান।
আমিরাতের ইতিহাস গড়া জয়ের দিনে ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালানোর পর বোলিংয়েও বড় অবদান রেখেছেন বাসিল। ৩ ওভারে ১৭ রান খরচায় ফিরিয়েছেন দুজন নামিবিয়ান ব্যাটারকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক গড়া কার্থিক ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচ করে পেয়েছেন একটি উইকেট। জহুর খান ও জুনায়েদ সিদ্দিকি যথাক্রমে পকেটে পুরেছেন দুটি ও একটি করে উইকেট।
এরআগে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে স্লথ শুরু করেন আমিরাতের দুই ওপেনার। ইনিংসের ১৬তম ওভারে আসে দলটির শতরান। এরমাঝে স্কোলটজের শিকার হয়ে ৩২ বলে ২১ রান করে ফেরেন ভিরিটিয়া আরভিন্দ ও ৪১ বলে ৫০ রান করা মুহাম্মদ ওয়াসেম।
চতুর্থ উইকেটে আলিশান সারাফুকে ভিসে ফেরালে বাকি পথ সামাল দেন রিজওয়ান ও বাসিল হামিদ। শেষ তিন ওভারে দুজনে তোলেন ৩৫ রান। ১৪ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ২৫ রানের ক্যামিও খেলেন বাসিল। অধিনায়ক রিজওয়ান ২৯ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় খেলেন ৪৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। অলরাউন্ডিং পারফর্মের ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়াসেম।










