ছাত্র-জনতার তোপের মুখে সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার এই পদত্যাগে উল্লাসে মেতে উঠেছেন দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ।
এ তালিকায় যেমন শোবিজ তারকারা রয়েছেন, একইসঙ্গে রয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, মডেল ও ইউটিউবাররাও। এদেরই একজন কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে প্রতিবাদী গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া পারসা মাহজাবীন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়েছেন পারসা। সোমবার তারুণ্যের এই বিজয়ে নিজেও রাস্তায় এসে উল্লাসে অংশ নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পতাকা হাতে একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘মুগ্ধদের রক্ত বৃথা যায়নি! দেখে নাও ভালো করে!’ সেই সাথে তিনি সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
এদিকে, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর থেকে সারাদেশে লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংস করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েও বেশ কয়েকটি পোস্ট করেছেন এই তরুণ প্রতিবাদী শিল্পী।
এসময় তিনি উল্লাস করতে গিয়ে কেউ যেন কোনো ভুল না করেন, সেই আহ্বান জানান। পারসা লিখেন,“আমি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, অনুভব করতে পারছি হয়তো বিজয় দিবসের আনন্দ এরকমই ছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় আনন্দ মিছিল করছে। সারা পৃথিবী দেখছে আমাদের তরুণ্যের বিজয়। এই বিজয়ের আনন্দ করতে করতে একটা কথা মনে হলো। বিজয়ের আনন্দের উল্লাসে আমরা যেন ছোটখাটো কোন ভুল না করে ফেলি।”
ছোটখাটো নির্বুদ্ধিতার কারণে যেন বিশাল অর্জন ম্লান না হয়, সেই আহ্বান জানিয়ে পারসা লিখেন,“সংসদ ভবন, গণভবন এবং বঙ্গভবন আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সম্মানের প্রতীক। আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই তৈরি। স্বৈরাচারের দ্বারা দখলকৃত ছিল। দখলমুক্ত হওয়ার পরে আনন্দ উল্লাস হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের নিজেদের টাকায় তৈরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক হবে না। আমাদের প্রতিটি ভিডিও কিন্তু বহির্বিশ্বেও দেখছে। ছোটখাটো নির্বুদ্ধিতার কারণে যেন বিশাল অর্জনটা ম্লান হয়ে না যায়।”
আরেকটি স্ট্যাটাসে পারসা লিখেন, “স্বাধীনতা’র পক্ষে ছিলাম। লুটপাট, ভাংচুর, অরাজকতা’র পক্ষে নাই। এসবই যদি করবেন তো আপনার আর ফ্যাসিবাদী’র মধ্যে পার্থক্যটা কোথায় থাকলো?”
দেশের ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ভাঙা ভাস্কর্য শেয়ার করে এই তরুণ শিল্পী আরো লিখেন,“কাজ এখনো অনেক বাকি! আজ উল্লাস করে নিন, কাল থেকে নোংরা আবর্জনা উচ্ছেদ করার কাজে লেগে পড়িয়েন নাহলে দেশটায় আর থাকা যাবেনা! এভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্য কীভাবে কেউ ভাংতে পারে? এতো ঘৃণা? এতো ময়লা আমার দেশের মানুষদের ভেতরটা? সত্যি এটা কখনো আশা করিনি!”








