এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইনের আশঙ্কায় ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও স্বেচ্ছায় পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।
রোববার (১৪ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে বিজিবির কড়া নজরদারি ও টহল কার্যক্রম দেখা গেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও লাঠিসোঁটা হাতে বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি শুরুর পর থেকে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। গত ১২ ও ১৩ জুন ভারতের উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থানা পুলিশ ৩৩ জন এবং ইসলামপুর থানা পুলিশ ২৭ জন বাংলাভাষী নারী, শিশু ও পুরুষকে আটক করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটককৃতদের প্রায় সবাইকে মুম্বাই ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের উত্তর দিনাজপুর, রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দানাজপুর এবং হরিপুরের ভাতুরিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসব বাংলাভাষীকে বাংলাদেশে পুশইন করার জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করার জন্য এলাকাবাসীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রত্নাই বারাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে যেন কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না হয়, সেজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করছি। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এভাবে পাহারা দেব।’
আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সীমান্ত সবসময় নিরাপদ থাকুক। কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারায় অংশ নিয়েছেন।’
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।







