মৃত্যুদণ্ড এড়াতে ৯ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টায় আছেন ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ট্রুং মাই ল্যান।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ৬৮ বছর বয়সি ট্রুং মাই ল্যান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গত এপ্রিল মাসে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের আপিলের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী, জালিয়াতির অর্থের ৭৫ শতাংশ ফেরত দিলে মৃত্যুদণ্ডের রায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হবে। ভিয়েতনামের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বিস্ময়কর রায়। একই সঙ্গে বিশ্বে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় ব্যাংক জালিয়াতি।
১১ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলো থেকে তিনি অর্থ লুট করেছেন বলে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে হো চি মিনের আদালত। একে ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ট্রুং মাই ল্যানের বিরুদ্ধে দেশটির সাইগন কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, ঋণের ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার পুনরুদ্ধার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই মামলায় ২ হাজার ৭০০ জনকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জনসহ মোট ২০০ জন আইনজীবী ছিলেন।
এই মামলার প্রমাণ মোট ১০৪টি বক্সে সংরক্ষিত আছে, যার ওজন ৬ টন। এই মামলায় ট্রুংসহ মোট ৮৫ জনের বিচার চলছে। যাদের সবাই নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।
হো চি মিন শহরের একটি চীন-ভিয়েতনামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ট্রুং মাই ল্যান। তিনি তার মায়ের সাথে প্রসাধনী বিক্রি কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করার পর তিনি জমি এবং সম্পত্তি কেনা শুরু করেন। ৯০-এর দশকে তিনি হোটেল এবং রেস্তোরাঁর একটি বড় পরিচয় দখন করেন।
মামলায় বাকি ৮৫ আসামীর সবাই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাকিদের ২০ বছর থেকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ট্রুং মাই ল্যানের স্বামী এবং ভাগ্নিকে ৯ এবং ১৭ বছরের জেল দেয়া হয়েছে।








