এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিনকে এক নারীর সঙ্গে নাচ-গান ও ঘোরাঘুরির দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, স্টেশন কার্যালয়ের ভেতরে এক নারীর সঙ্গে আশরাফ উদ্দিন হাত ধরাধরি করে হাঁটাহাঁটি ও হাসি-তামাশায় মেতে উঠেছেন। অপর একটি ভিডিওতে রাতের বেলায় ওই নারীর সঙ্গে গানের তালে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে নাচতে দেখা যায় তাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ পুরো স্টেশনের শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
শ্রীবরদী পৌর এলাকার সাতানী মহল্লার বাসিন্দা মো. মিষ্টার মিয়া, মো. হুমায়ুন কবিরসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিসের মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি বাহিনীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করা হয়। তাই এমন ঘটনার পর জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি টিকটকের জন্য ভিডিওটি তৈরি করেছিলাম। অনেকেই টিকটক করে, তাই আমিও করেছি। বিষয়টি এভাবে ছড়িয়ে পড়বে, তা ভাবিনি।’
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জামালপুর ও শেরপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘একজন স্টেশন কর্মকর্তার এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে সরকারি কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।







