‘প্রেমকে না বলুন, প্রেম থেকে দূরে থাকুন’, ‘যাদের কেউ নাই তাদের নিয়ে গণক্রন্দন’, ‘প্রেমের নামে অশ্লিলতা রোধে প্রেম বঞ্চিত সংঘের মিছিল’- এসব কোনো প্রেমবিরোধী সংঘের শ্লোগান নয় বরং ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে নেয়া নানা ইভেন্ট পরিকল্পনার শ্লোগান, যেগুলো নিয়ে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

বিশ্বব্যাপী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়। দিনটিতে প্রিয় মানুষগুলোর প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করে উদযাপন করেন অনেকেই। তবে দিনটিকে কেন্দ্র করে উদযাপন আনন্দের চাইতে অন্যের উদযাপনে বাধা দেয়াই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুললেই ভালোবাসা দিবস বিরোধী শত শত ভার্চুয়াল ইভেন্ট চোখে পড়ছে। শুধু যে ইভেন্ট তৈরি হচ্ছে তা না, হাজারো মানুষ ইভেন্টগুলোতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া দিয়ে সহমত জানাচ্ছেন।
এই ইভেন্টগুলো নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে অনেকেই নিজেদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত থাকার কথা যেমন জানাচ্ছেন, তেমনই অনেকেই মেতেছেন হাসি-ঠাট্টায়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মোঃ সৈকত নামে এক তরুণ “প্রেমের নামে অশ্লীলতা রোধে প্রেম বঞ্চিত সংঘের মিছিল” নামে একটি ইভেন্ট তৈরি করে লিখেছেন, ‘কেউ পাবে আর কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না, চিপায় চাপায় পড়লে ধরা, মাইর হবে উরাধুরা, প্রেমের নামে ছলনা চলবে না চলবে না, ২০২৪ সাল সিঙ্গেলদের বিজয়কাল”।
এমনই আরও দুই তরুণ সোহান আহমেদ ও সাদিন হোসেন তৈরি করেছেন এক ইভেন্ট যার নাম “যাদের ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে পার্টনার নাই, তাদের নিয়ে গণক্রন্দন কর্মসূচি”। তাদের এই ক্রীড়াসূচিতে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তবে এই ইভেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অভ্র আবরার ইয়াসির নামে এক তরুণের তৈরি করা “১৪ ফেব্রুয়ারিতে কাপলদের দিকে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি” যাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এমনই কিছু হাস্যরসাত্মক ইভেন্টগুলোর মধ্যে আছে, ‘বয়কট ভ্যালেন্টাইনস ডে’, ‘১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভাই বোন দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হোক’, ‘১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কালো ব্যাজ পরিধান করে ক্যাম্পাসে আসবো’, ‘১৪ ফেব্রুয়ারি ঘূর্ণিঝড় হোক’, ‘সিঙ্গেলদের বিক্ষোভ মিছিল’, ‘১৪ ফেব্রুয়ারিতে কাপলদের দেশ থেকে বিতারিত করা হোক’, ‘প্রেমকে না বলুন প্রেমিকাকে হ্যাঁ বলুন’সহ আরও অনেক ইভেন্ট।

এবার ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাসা দিবসের পাশাপাশি পহেলা ফাল্গুন, সরস্বতী পূজাসহ সুন্দরবন দিবস পালন করা হবে। সরস্বতী পূজার জন্য দিনটি এবার সরকারি ছুটির আওতায় পড়েছে।








