৭০ ও ৮০-এর দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক উজ্জ্বল। বাংলা সিনেমার দর্শকদের কাছে তিনি ‘মেগাস্টার উজ্জ্বল’ নামেই পরিচিত। সেই সময়ে নসীব, দুটি মন দুটি আশা, অচেনা অথিতি, বাংলার মুখ, ফকির মজনুশাহ, উছিলা, ঘর সংসার, অনুরাগ, কুদরত, অপরাধ, সমাধি, পিঞ্জর, দোস্তী, পায়ে চলার পথ, সমাধী সিনেমার মাধ্যমে বাঘা বাঘা নায়কদের মধ্যে নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন উজ্জ্বল।
শুরু থেকে এই নায়ক বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে উজ্জ্বল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। এমনকি দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গেও ছিল তার সখ্যতা। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন উজ্জ্বল। তবে এই বর্ষিয়ান অভিনেতা জানালেন ভিন্ন কথা।
সোমবার দুপুরে চ্যানেল আই ভবনে তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রাজনীতি একজন শিল্পীর জীবন তৈরি করতে পারেনা। আমি মনে করি, সংসদে যাওয়া বা মন্ত্রণালয় চালানো রাজনীতিবিদের কাজ। এটা তাকেই করতে হবে। কেউ যদি রাজনীতিবিদ হতে চায় তাহলে রাজনীতিতে সময় দিতে হয়। রাজনীতির বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে।
“আমি প্রায় ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে শিল্পী। এখানে আমার বিচ্যুতি নেই। আমি এই কাজে নিবেদিত ছিলাম। রাজনীতিবিদ হতে হলে একইভাবে কাজ করা উচিত।” বলেন এই নায়ক।
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেকের রাজনৈতিক হাতেখড়ি না থাকলেও প্রকাশ্যে নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী দাবি করেছেন। শিল্পী পরিচয় ট্যাগ লাগিয়ে দলীয় কাজে সময় দিয়েছেন। উজ্জ্বল সেই প্রসঙ্গে টেনে বলেন, আমাদের এখানে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। সেটা হচ্ছে, শিল্পীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানো। কিন্তু তার এই জনপ্রিয়তা তো শিল্পী হওয়ার কারণে। রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অন্য জিনিস।
“নায়ক বা শিল্পী হিসেবে আলাদা রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয়তা আছে। এজন্য শিল্পীকে পার্লামেন্টে যেতে হবে, মন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে এই চিন্তাটা সঠিক নয়। এসব ভুল পথে হেঁটে আমার অনেক অনুজ ভাই বোনেরা বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে তাদের এতো কষ্টে অর্জিত ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা নৈতিক স্খলনের কারণে তারা আজ হারিয়ে গেছে, জনগণের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে, পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। তারা কেউ অন্যায় করেছে হয়তো কেউ অন্যায় করেনি। তবুও পরিস্থিতির কারণে আজ তারা ভিকটিম। এর কারণ, তারা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই অথিতি পাখির মতো রাজনীতি করতে এসেছে। এই কাজটা অনেক কঠিন।” বলেন ‘বাংলার মুখ’ খ্যাত এই তারকা অভিনেতা।
উজ্জ্বল মনে করেন, শিল্পী হতে গেলে যেমন সাধারণ থেকে অসাধারণ সবার হৃদয়ে স্থান পেতে হয়, তেমনি রাজনীতিবিদ হতে হলেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।








