ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বৈদেশিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডিকে ভেঙে দিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিদেশে হাজার হাজার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় সকল বিদেশী সহায়তা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে চলমান কাজের উপর তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশের আদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাহায্য সংস্থা ও ঠিকাদারদের অর্থ বিতরণও বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে এক মার্কিন মানবিক কর্মকর্তারা বলেছেন, মানুষ চারিদিকে চাকরি হারাচ্ছে, এই প্রতিক্রিয়াও খুব তাড়াতাড়ি দেখা যাবে।
একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ঠিকাদাররা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অনাদায়ী বিল সংগ্রহের ঝুঁকিতে পড়েছে, যার ফলে তারা প্রায় ২০০০ কর্মীকে ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।
সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো ড্যানি বাহার বলেছেন, ইউএসএআইডি একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। এই প্রতিষ্ঠানে এখানে ও বিদেশে হাজারো মানুষ কাজ করছে, যারা সরাসরি বাকি দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বিকাশেও সহায়তা করছে।
একজন উন্নয়ন ঠিকাদার সিএনএনকে বলেছেন, তহবিল স্থগিতকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলবে। মানুষ এটি এখনই বুঝতে পারছে না। এছাড়া এটি বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগের বিস্তারকেও প্রভাবিত করবে।
তিনি আরও বলেন, এমন অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা আছে যা ইউএসএআইডি-এর প্রোগ্রামগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেই ব্যবসাগুলোতে ধস নামবে।

কেমোনিক্স নামের মার্কিন কোম্পানি যারা আমেরিকান নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং উপকূলে পণ্য পৌঁছানোর আগে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা নিয়ে কাজ করে, তারা ইউএসএআইডির স্টপ-ওয়ার্ক অর্ডারের ফলে ৬০০ জনেরও বেশি কর্মীকে ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ৪১টি মার্কিন রাজ্যের ৩০০ কর্মীর জন্য কর্মঘণ্টা কমাতে বাধ্য হয়েছে।
বিদেশী সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হলে আমেরিকা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে পড়বে বলেও মনে করছে ইউএসএআইডি কর্মীরা। কারণ ইউএসএআইডি যা করে তার বেশিরভাগই হলো বিশ্বব্যাপী চরমপন্থার মূল কারণগুলিকে চিহ্নিত করে। আফ্রিকায় কর্মরত ইউএসএআইডির একজন কর্মী সিএনএনকে বলেন,’এই তহবিল বন্ধের ফলে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চীন সহজেই তাদের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, যা আমেরিকান ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং মূল্যবোধকে বিপন্ন করবে।’
তবে টেক বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ইউএসএআইডিকে “আমেরিকাকে ঘৃণা করে এমন উগ্র-বাম মার্কসবাদীদের সাপের বাসা” বলে উল্লেখ করে এটিকে ‘সংস্কার অযোগ্য’ বলেছেন। ইউএসএআইডি বন্ধের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একমত।
১৯৬১ সালের মার্কিন আইন অনুসারে প্রতিষ্ঠিত ইউএসএআইডি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচন, রোগের চিকিৎসা এবং দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ডলার অনুদান সাহায্য করে। এটি বেসরকারী সংস্থা, স্বাধীন মিডিয়া এবং সামাজিক উদ্যোগগুলিকে সমর্থন করে গণতন্ত্র গঠন ও উন্নয়নকেও উৎসাহিত করে। এছাড়া ইউএসএআইডি-তে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার আমেরিকান রয়েছেন যারা তাদের কর্মজীবন সরকারি চাকরিতে উৎসর্গ করেছেন।








