যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা বা গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) নিরাপত্তা যাচাই বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নীতিমালার আওতায় এফবিআই-এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের আরও নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হবে।
আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব আবেদন বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এবং যেগুলোর আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই এর আগে সম্পন্ন হয়েছিল, সেগুলোকে আবারও নতুন করে পরীক্ষা করতে হবে।
মূলত ফেডারেল অপরাধ তথ্যভাণ্ডারে আবেদনকারীর কোনো রেকর্ড আছে কি না, তা আরও গভীরভাবে দেখার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে আটকে যেতে পারে হাজারো আবেদন।
ইউএসসিআইএস-এর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, নতুন এই ‘এনহ্যান্সড ভেটিং’ বা উন্নত যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আবেদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া যাবে না। এর ফলে গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমাণ হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীরা দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা বলছেন, ইউএসসিআইএস দাবি করছে এই প্রক্রিয়া খুব বেশি সময় নেবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে। নতুন করে কয়েক লাখ আবেদনের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস পর্যন্ত বাড়তি সময় লেগে যেতে পারে।
কাদের ওপর প্রভাব পড়বে?
এই কঠোর নীতিমালার আওতায় প্রধানত নিচের আবেদনগুলো বেশি প্রভাবিত হবে-
১. আই-৪৮৫: যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন।
২. এন-৪০০: যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন।
৩. আই-৭৬৫: যারা ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।
৪. রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীরা।
সামাজিক মাধ্যম ও আর্থিক লেনদেনেও নজর
শুধু অপরাধের রেকর্ড নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের কর্মকাণ্ড করছেন বা তাদের আর্থিক লেনদেনের উৎস কী—সেসব বিষয়েও ইউএসসিআইএস কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সরাসরি সাক্ষাৎকারের সংখ্যাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের করণীয় কী?
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, আপাতত আবেদনকারীদের নিজ থেকে কিছু করার প্রয়োজন নেই। আগে দেওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করেই সংস্থাটি নিজ উদ্যোগে নতুন করে এই যাচাই সম্পন্ন করবে। তবে যদি কারও তথ্যে অসংগতি পাওয়া যায় বা নতুন করে বায়োমেট্রিক দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তাকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই কড়াকড়ি আনা হলেও, এর ফলে বৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে ট্রাভেল ব্যান বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ৩৯টি দেশের তালিকায় থাকা নাগরিকদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও কঠিন হবে।


