বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্র, সহায়তার আশ্বাস

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তায় দেশটি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সারাহ আলড্রিচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতার আত্মদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহের কথা জানিয়ে সারাহ আলড্রিচ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে, যে কোনো সহায়তায় প্রস্তুত।’
জুলাইয়ের চেতনায় বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশটির ক্রমাগত উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ দিক থেকে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোয় পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
স্মরণসভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।




