লাইফস্টাইল

কাজ করতে বসলেই মোবাইল দেখতে ইচ্ছা করে কেন?

কাজ করতে বসলেই মোবাইল দেখতে ইচ্ছা করে কেন?

কাজের টেবিলে বসেছেন। সামনে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। সবকিছু গুছিয়েও নিয়েছেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই মনে হলো একবার মোবাইলটা দেখা যাক। হয়তো কোনো নতুন মেসেজ এসেছে, কোনো নোটিফিকেশন এসেছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কিছু পোস্ট হয়েছে।

‘একবার’ দেখতে গিয়ে কখনো ১০ মিনিট, কখনো আধা ঘণ্টা কেটে যায়। এরপর কাজে ফিরলেও আগের মতো মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

এটি শুধু সময় নষ্টের অভ্যাস নয়, এর পেছনে রয়েছে মনোযোগ, অভ্যাস ও তাৎক্ষণিক পুরস্কার পাওয়ার মানসিক প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

কঠিন কাজ থেকে সহজ আনন্দের দিকে মন যায়
কোনো কাজ যখন দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ দাবি করে, একঘেয়ে মনে হয় কিংবা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়, তখন মস্তিষ্ক তুলনামূলক সহজ ও আকর্ষণীয় উদ্দীপনার দিকে ঝুঁকতে পারে।

মোবাইল সেই সুযোগটি খুব সহজেই তৈরি করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নতুন একটি বার্তা, ছবি, ভিডিও কিংবা খবর পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে কাজ করার তুলনায় মোবাইল দেখা অনেক সহজ ও তাৎক্ষণিকভাবে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।

নোটিফিকেশন তৈরি করে কৌতূহল
মোবাইলের নোটিফিকেশন আমাদের মনোযোগ ভাঙার অন্যতম কারণ। একটি ছোট শব্দ, ভাইব্রেশন বা স্ক্রিনে ভেসে ওঠা বার্তাই মস্তিষ্কে কৌতূহল তৈরি করতে পারে ‘কী এসেছে?’

ফলে কাজের মাঝেও ফোনটি পরীক্ষা করার প্রবণতা তৈরি হয়। এমনকি নোটিফিকেশন না এলেও অনেকের মনে হতে পারে, ফোনে নতুন কিছু এসেছে কি না একবার দেখে নেওয়া দরকার।

‘একবার দেখব’ কেন এত সহজে দীর্ঘ সময় হয়ে যায়?
মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত ফাঁদগুলোর একটি হলো স্বল্প সময়ের উদ্দেশ্যে ফোন হাতে নেওয়া, কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় সেখানে কাটিয়ে দেওয়া।

একটি মেসেজ দেখা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাওয়া, সেখান থেকে ভিডিও বা অন্য কনটেন্ট দেখা—এভাবে একটির পর একটি উদ্দীপনা মনোযোগকে মূল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে।

অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে
সবসময় ফোন দেখতে চাওয়াকে সরাসরি ‘আসক্তি’ বলা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি শেখা আচরণ বা অভ্যাস।

কাজে বিরক্তি লাগলেই ফোন দেখা, অপেক্ষার সময় ফোন ব্যবহার করা কিংবা কোনো কঠিন কাজ শুরু করার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকে পড়া এগুলো বারবার ঘটতে থাকলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই আচরণের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়।

ফলে পরবর্তী সময়ে সামান্য বিরক্তি বা অস্বস্তি তৈরি হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

এতে কাজের ক্ষতি কতটা?
বারবার কাজের মাঝখানে মনোযোগ পরিবর্তন হলে শুধু সময়ই নষ্ট হয় না; কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়। ফোন দেখা শেষ করে আবার মূল কাজে ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। একই কাজ বারবার শুরু করার কারণে মানসিক ক্লান্তিও বাড়তে পারে।

ফলে যে কাজটি হয়তো এক ঘণ্টায় শেষ হওয়ার কথা, সেটি শেষ করতে আরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

কীভাবে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে কাজের সময় মোবাইলকে দৃষ্টিসীমার বাইরে রাখা। ফোন টেবিলের ওপর থাকলে বারবার দেখার সুযোগ তৈরি হয়। তাই সম্ভব হলে ফোনটি ব্যাগে, ড্রয়ারে বা কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করাও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় কাজ এবং ছোট বিরতির একটি রুটিন তৈরি করা যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কাজ শুরু করার আগে নিজের কাছে পরিষ্কার করে নেওয়া এই সময়টুকুতে আসলে কোন কাজটি শেষ করতে হবে।

কাজের সময় মোবাইল দেখতে ইচ্ছা করাটা আধুনিক জীবনের খুব পরিচিত একটি অভিজ্ঞতা। এর অর্থ এই নয় যে কেউ অলস বা তার মনোযোগের ক্ষমতা কম।

তবে যখন তাৎক্ষণিক আনন্দের জন্য বারবার গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে মন সরে যায়, তখন সেটি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। আর অভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রযুক্তির সঙ্গে লড়াই করার চেয়ে নিজের পরিবেশ ও কাজের পদ্ধতিতে ছোট কিছু পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর।

কারণ অনেক সময় মনোযোগ নষ্ট করার জন্য বড় কোনো কারণ লাগে না টেবিলের ওপর রাখা একটি মোবাইলই যথেষ্ট।

বিষয়:মনোযোগ ভাঙামোবাইলমোবাইল ব্যবহারমোবাইলের নোটিফিকেশনস্ক্রিন
প্রতিবেদক

ফারজিয়া হোসেন

নির্বাহী বিক্রয় ও বিপণন চ্যানেল আই

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…