আন্তর্জাতিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসায় কড়াকড়ি, কাজ হারানোর ঝুঁকিতে ভারতীয়রা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসায় কড়াকড়ি, কাজ হারানোর ঝুঁকিতে ভারতীয়রা

ছবি: সংগৃহীত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এতে সবচেয়ে বেশি কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন ভারতীয়রা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে আরো কয়েকটি আইনি ধাপ পেরোতে হবে। সে প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ ইএডি থাকা যোগ্য এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়মে কাজ করতে পারবেন।

২০১৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত অনুমোদিত এইচ-৪ ইএডি-ধারীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তাদের ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী। ফলে নতুন উদ্যোগের প্রভাব ভারতীয় নারীদের ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবটি দেশটির নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের সরকারি ওয়েবসাইট Reginfo.gov-এ অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের অধীনে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এটি ডিএইচএসের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রক কার্যসূচির অংশ। তবে কবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবটির নাম ‘রিমুভিং এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্পাউসেস ফ্রম দ্যা ক্লাসেস অফ ননসিটিজেনস এলিজেবল ফর এমপ্লয়মেন্ট অথোরাইজেশন’ সহজ বাংলায় এর অর্থ, ‘কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য অ-নাগরিকদের শ্রেণি থেকে এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রীকে বাদ দেওয়া’।

ডিএইচএস বলছে, এইচ-১বি ভিসাধারীদের নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীকে কর্মসংস্থানের অনুমতির জন্য আবেদন করার যোগ্যতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে চালু হওয়া নিয়মটি বাতিল করে আগের নীতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০১৫ সালের ওই নিয়মের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রী ইএডির জন্য আবেদন করতে পারতেন। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের সুযোগ পান।

নতুন প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। তাই এটি এখনই এইচ-৪ ইএডি বাতিল করছে না।

প্রস্তাবটি কার্যকর করতে প্রথমে ডিএইচএসকে ফেডারেল রেজিস্টারে ‘নোটিশ অব প্রপোজড রুলমেকিং’ প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সবশেষে চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে হবে।

এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ ইএডি থাকা যোগ্য এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়মে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

এইচ-৪ ইএডি ব্যবস্থা বাতিলের চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে ডিএইচএস নির্দিষ্ট এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রীর কর্মসংস্থানের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়নি। পরে ২০২১ সালে সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এবারের উদ্যোগটি সেই নীতিই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

এইচ-৪ ভিসা কী

এইচ-৪ কোনো কাজের ভিসা নয়। এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ দিতে এই ভিসা দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী ইএডির জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রীর অনুমোদিত ফরম আই-১৪০ থাকা একটি শর্ত। এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এইচ-১বি ভিসার ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সময় বাড়ানো হলে ইএডির জন্য আবেদন করা যায়।

ইএডি ছাড়া এইচ-৪ ভিসাধারীরা বৈধভাবে চাকরি করতে পারেন না। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে পারেন এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন।

নতুন প্রস্তাবের প্রভাব ভারতীয় এইচ-১বি পরিবারগুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের।

এইচ-৪ ইএডির পুরোনো তথ্যও ভারতীয়দের বড় অংশগ্রহণের বিষয়টি দেখায়। ২০১৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত অনুমোদিত এইচ-৪ ইএডি-ধারীদের ৯৩ শতাংশ ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তাদের ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী।

ফলে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ভারতীয় এইচ-১বি পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ, বিশেষ করে কর্মরত এইচ-৪ স্বামী বা স্ত্রী, এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

এইচ-৪ ইএডির যোগ্যতা বাতিলের উদ্যোগটি এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরো কয়েকটি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত।

ডিএইচএস নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য এইচ-১বি কর্মীরা বর্তমানে যে ৬০ দিনের সময় পান, সেটিও বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলে এইচ-১বি কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি আরো কঠোর করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এইচ-৪ কর্মসংস্থান অনুমতির এই প্রস্তাবকে।

বিষয়:এইচ-৪ ভিসাকড়াকড়িঝুঁকিতে ভারতীয়রা
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…