বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুর দিকে প্রস্তাবিত শুল্কহার ছিল ৩৫ শতাংশ, তবে তা ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার ফলে এখন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির সময় গড় ১৫ শতাংশ প্রচলিত শুল্কের সঙ্গে নতুন ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক মিলিয়ে মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে জানান, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউজ থেকে স্টেটসমেন্ট দিয়ে জানানো হয় বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ৩৭ শতাংশ। পরে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন এক তরফা সিদ্ধান্তে একাধিক দেশের ওপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, যার আওতায় বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে ৩৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। যদিও ৯ এপ্রিল থেকে তিন মাসের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়েছিল আলোচনা চলাকালীন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক বিষয়ক তৃতীয় দফার আলোচনা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ২৯ জুলাই শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আলোচনার শেষ দিনে শুক্রবার (১ আগস্ট) উভয় পক্ষ যৌথভাবে নতুন ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্যান্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তান ১৫ শতাংশ, ভারত ২৫ শতাংশ, ব্রাজিল ১০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ১৯ শতাংশ করে, মিয়ানমার ৪০ শতাংশ, ফিলিপাইন ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।







