আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন জেরে ১০ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর নির্দেশ

এয়ারপোর্টে উড়ন্ত বিমান ও স্থগিত বিমানবন্দরের দৃশ্য. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি শাটডাউনের প্রভাবে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে ব্যাপক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। শাটডাউন টানা ৩৬তম দিনে গড়ানোয় মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি প্রধান ৪০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার ফলে দেশজুড়ে বিমান সংস্থাগুলো মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ফ্লাইট সূচি ব্যাপকভাবে পুনর্বিন্যাসে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে হাজারও যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং কাস্টমার সার্ভিস হটলাইনে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে।

মার্কিন ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম শাটডাউন। এ কারণে প্রায় ১৩ হাজার এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার এবং ৫০ হাজার ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, যদি ডেমোক্র্যাটরা সরকার পুনরায় চালু করতে সম্মত হন, তাহলে এই ফ্লাইট কাটছাঁট প্রত্যাহার করা হতে পারে।

Two men speaking at a podium during a formal event in a conference hall. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি প্রধান ৪০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে ট্রাম্প প্রশাসন শাটডাউন সমাধানে ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেসে সরকারি ব্যয় বিল পাস না হওয়ায় সরকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি নিয়ে রিপাবলিকানদের অনড় অবস্থানই এ অচলাবস্থার জন্য দায়ী।

শাটডাউন শুরুর পর থেকে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকর্মীর ঘাটতির কারণে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর হিসাবে, শুধু গত তিন সপ্তাহেই প্রায় ৩২ লাখ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে এই সীমিত ক্ষমতার আওতা থেকে ছাড় দিয়েছে, তবু দেশীয় রুটে ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বিমানবন্দরে দীর্ঘ নিরাপত্তা সারি, ফ্লাইট বিলম্ব এবং যাত্রী অসন্তোষ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর পূর্ণ তালিকা প্রকাশ না করলেও, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ডালাসসহ অন্তত ৩০টি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে ফ্লাইট কাটছাঁটের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়:ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…