ভেনেজুয়েলার মাদকবাহী জাহাজে দ্বিতীয় দফা হামলার নির্দেশ একটি শীর্ষ মার্কিন নৌ-কমান্ডারই দিয়েছিলেন বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, অ্যাডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ব্রাডলি তার আইনগত ক্ষমতার মধ্যেই দ্বিতীয় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
লেভিট জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলার অনুমোদন দিলেও সবাইকে হত্যা করতে বলেননি। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, প্রথম বিস্ফোরণে দু’জন বেঁচে যাওয়ায় জ্বলন্ত জাহাজে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়।
ঘটনার বৈধতা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কংগ্রেশনাল পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার উপকূলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। এ অভিযানে এ পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
অভিযানকে আত্মরক্ষার দাবি করলেও এসব হামলা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক চক্রকে লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করা হয়েছে। হেগসেথ হামলার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অভিযোগগুলো মনগড়া ও অপমানজনক। অ্যাডমিরাল ব্রাডলিকে তিনি সত্যিকারের পেশাদার বলে আখ্যা দেন।
ঘটনা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। নৌ-অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়েও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে দ্বিতীয় হামলায় সম্ভাব্য বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন হতে পারে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদ হামলার নিন্দা জানিয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মার্কিন পদক্ষেপকে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক ফোনালাপ নিয়েও নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যেখানে মাদুরোকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প।








