যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ ইতোমধ্যে চতুর্মুখী রূপ পেয়েছে! ইতোমধ্যে তেল সম্পদ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের সেন্ট্রাল পয়েন্ট মধ্যপ্রাচ্য-উপসাগরীয় অঞ্চলের ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধের ক্ষত সবসময় মৃত্যু আর ধ্বংসের। এখন জনে জনে প্রশ্ন এই চতুর্মুখী যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে? বৈশ্বিক ক্ষতির বাইরে প্রতিটি দেশ ক্ষতি ও ক্ষতের তালিকায়। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যের কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক জনগোষ্ঠীর রুটি-রিজিকের বাইরে নিরাপত্তা ইস্যুটিও কম না। অভিবাসী শ্রমিকদের ভাগ্যে কি ঘটবে সেটাও বড় ভাবনার! আর রাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনীতি তো রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসীদের হাতেই। যুদ্ধ দিনে শ্রমিক ও তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার কমতি হলে এদেশের অন্যতম আয়ের নির্ভরশীল উৎস বাংলাদেশের অর্থনীতির হাল বা কি দাঁড়াবে? সেই প্রশ্নও উঠছে ঘুরে ফিরে। কেননা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
আসুন ইরানের রেজিম পরিবর্তনে ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের চতুর্মুখী রূপের বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট স্বার্থ-সুযোগ ও সীমাবদ্ধতার খানিক বিশ্লেষণ করি।
কেননা ইতোমধ্যে ইরানের রেজিম চেইঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ ও সম্পদশালী মূল কেন্দ্রীয় ক্ষমতাধর কয়েকটি দেশ সৌদি আরব, দুবাই, বাহরাইন আক্রান্ত হয়েছে। যুদ্ধাবস্থায় বন্ধ রয়েছে আকাশ পথ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুল সংখ্যকের ভাগ্য যেমন অনিশ্চিয়তায়। এই রেমিটেন্সযোদ্ধা শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে পরিচালিত হয় এদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই শ্রমিকদের নিরপত্তা, কাজের ক্ষেত্রে কি করণীয় এবং ভবিষ্যত কাজের নিশ্চয়তা সর্বপরি যুদ্ধাবস্থায় শ্রমিক কি করবেন কোথায় যাবেন সেই প্রয়োজনীয় ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত শ্রমিকেরা কে কিভাবে নেবেন তাদের কি করণীয় সেই প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় করণীয় বা পরামর্শ দেওয়াটা মুখ্য। এই সব বিষয়ে দেশে বসে নীতি-নির্ধারকেরা যা ভাবছেন তা সময়মত শ্রমিকের অবধি পৌছানো হচ্ছে কি না। সবমিলিয়ে যুদ্ধকালীণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কি করছে কি ভাবছে সেই বিষয়গুলো নিয়েই আজকের আলোচনা।
চলুন শুরুতেই আলোচনা করি ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য কি?
উত্তরে বলতে হয়: ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল’ চায় ইরানে ক্ষমতাসীন কট্টোর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্ষমতার অবসান। এই রেজিম চেইঞ্জের অভিপ্রায়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক হামলার সূচনা করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই: দাবি করেন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়াই এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ওই সামরিক হামলায় প্রায় সাড়ে বারো’র বেশি স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আঘাত হানে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও সম্পদশালী বিশ্ব বাণিজ্যের সেন্টাল পয়েন্ট উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে পাল্টা হামলা চালায়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দুবাই, সৌদি আরব ও বাহরাইনের মত দেশ। বন্ধ রয়েছে দেশগুলোর আকাশপথ, সম্ভাবতই হুমকির মুখে পড়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে হামলা চার পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে আশঙ্কার কথা ইরানও নিরবচ্ছিন্নভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে ইরান পাল্টা আক্রমন যদি এভাবেই অব্যাহত রাখে তবে কি সহসাই বন্ধ হবে ইরান ঘিরে চলা এই যুদ্ধ পরিস্থিতি? আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতির এই অনিশ্চয়তা ঘিরে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিক এবং অর্থনীতিক পরিস্থিতির সাথে আবর্তিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যত সেই বিশ্লেষণ করতে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনা শুরু করি।
প্রথমত: যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ ঘিরে এখন প্রশ্ন কোটি টাকার প্রশ্ন ইরানে রেজিম চেইঞ্জ কতটা ঘটবে? আর এর উপরই নির্ভর করবে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা কতদিন চলবে। আর পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ভয়াবহতা কতটা বাড়বে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সেই ৪-৫ সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের লাগাম টেনে ধরা যাবে কি?
এই প্রসঙ্গে শিক্ষাবীদ গবেষক লেখক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আমাকে বলেছেন, এখনো মনে হচ্ছে এই যুদ্ধ খুব দীর্ঘায়িত হবে না। তবে সেটাও আরো স্পষ্ট বোঝা যাবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে। আর এটা অবশ্য ইরানের জনগনের উপরই নির্ভর করছে। দেশের রেজিম পরিবর্তন চেয়ে ইরানী জনগন কতটা প্রতিক্রিয়া দেখায়, সক্রিয় হয় এবং মাঠে নামে সেটার উপর নির্ভর করবে যুদ্ধের মেয়াদকাল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বলছেন, ইরানের জনগন যদি ‘ইসলামী রিপাবলিক অব ইরান’ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখে তবে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে।
মূলত ইরানের ‘ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপস’ বা ‘ইরানী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী-আইআরজেসি’ বিরুদ্ধে জনগন না দাড়ালে তবে মার্কিন-ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের রেজিম চেইঞ্জের বিষয়টি ভিন্ন পন্থায় যাবে।
যদিও ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক হামলায় নিহত হয়েছে ‘ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপস’র প্রথম সারির নেতৃত্ব। ফলে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরী হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র -ইসরায়েলের লক্ষ্য হবে ‘ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপস’কে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় করা। সুতারং ইরানে সামরিক অভিযান কতটা চলমান থাকবে এবং এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপসাগরীয় দেশগুলোর উপর কতটা পাল্টা হামলা চালাবে সেটার উপর নির্ভর করবে যুদ্ধের আরো ব্যাপ্তি বা কমতির তৎপরতা।
আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বল্প মেয়াদে এক থেকে দুই মাস মধ্যম মেয়াদে ২ থেকে ৬ মাস এবং দীর্ঘ মেয়াদে এক বছর গড়াতে পারে কি না সেটা সুনিদিষ্ট ভাবে বলা কঠিন। তবে ইরানের জনগন বর্তমান রেজিম ধরে রাখতে কতটা ঐকবদ্ধ্য সেটাও একটি শর্ত বটে। সবমিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কত দিনে গড়াবে সেটা অনেকগুলো নির্ভরশীল শর্তের ভিত্তিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কিছুটা হলেও বোঝা যাবে। এর জন্য এখন দেখার বিষয়: ইরানের জনগন কতটা পরিবর্তন চায় আর সেই অভিপ্রায়ে তারা কি করছে আরেকটি বিষয়: ‘ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপস’র তরফে ইরানের রাষ্ট্র ক্ষমতা কতটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে করায়ত্ব করার চেষ্টায় মরীয়া হবে এর উভয়মুখী শর্তের উপর নির্ভরশীল-যুদ্ধের মেয়াদকাল।
উল্লেখিত ওই শর্তগুলো আবার ইরানী জনগনের মনস্তাত্বিক বোধের উপর অনেকটা নির্ভরশীল। তাই ইরানী জনগনের জীবনাচার ও ধর্মীয় বিশ্লেষণ করাটাও জরুরি। এক্ষেত্রে বলা চলে ইরানে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ট হলো শিয়া। মূলত শিয়া জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ট থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যদেশের মত শিয়া সুন্নি ও কুর্দি এমন বিভাজন অনেকটাই কম। যদিও বলা হয় উগ্র ধর্মন্ধ শাসক ও শাসনে দীর্ঘকাল ইরানে দমন পীড়ন চলেছে ফলে স্বাভাবিক উদারপন্থি মত ও মর্তাদর্শের মানুষেরা নিগৃহীত হয়েছে। ফলে এই রেজম চেইঞ্জের সুযোগে সাধারণ জনগনের সংখ্যাগরিষ্ট বা কারা সক্রিয় হবে সেটা ভাবার বিষয়।
এক্ষত্রে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ারভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন এর বক্তব্যটি তুলে ধরাই যায়। তিনি বলছেন, ভিয়েতনামে মার্কিন যুদ্ধ ১৩ বছর গড়িয়েছিল। তবে এবারের ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার পেক্ষাপট ও অঞ্চলও ভিন্ন। এবারের যুদ্ধ বিশ্বের বাণিজ্যিক সেন্টার পয়েন্টে। ইতোমধ্যে দুবাই ও সৌদি আরব, বাহরাইন ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশগুলোর পক্ষে যুদ্ধ বন্ধে এক ধরনের চাপ ও প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেননা তেল সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় সেন্ট্রাল পয়েন্টের এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের জ্বালানী তেল ও কুড ওয়েল সরবরাহ মারাত্বকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হবে। ফলে দুবাই, কাতার, সৌদি আরব চাইবে না এই যুদ্ধ র্দীঘ দিন না গড়াক। তাই বৈশ্বিক বাণিজ্যের সেন্ট্রাল পয়েন্টে থাকা দুবাই, কাতার, সৌদি আরব যুদ্ধ পরিস্থিতি আর বাড়তে না দেওয়ার পক্ষে দুতিয়ালি করবে বলেও মনে করেন ‘এভিয়েসন ও এরোস্পেশ ইউনিভার্সিটির এই বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত এয়ারভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন।
দ্বিতীয়ত: এবার আসুন বৈশ্বিক সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্র পয়েন্ট উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানে পাল্টা হামলায় যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি যদি দীর্ঘ মেয়াদে গড়ায় তবে কি হতে পারে সেই বিশ্লেষণ করি?
উপসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি দেশের আকাশসীমা বন্ধ। স্বভাবতই হাজার হাজার ফ্লাইট বা উড়াল চলাচল বন্ধ। ‘এভিয়েসন ও এরোস্পেশ ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত এয়ারভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন বলছেন, বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্ব উড়াল ব্যবস্থা বন্ধ হয়েছিল। এরপর এবার ১৫টি দেশের উড়াল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে হুমুকির মুখে এয়ারলাইয়েন্স খাত। এর ফলে প্রতিদিন যাত্রী, পন্য পরিবহন বন্ধ ও ব্যাহত বাবদ ক্ষতি টাকা অঙ্কে (—-) বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এয়ার লাইন্সগুলোকে ভিন্ন ঘুরপথে ফ্লাইট পরিচালনায় তেল খরচ বাড়ছে।
কেননা তেল সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যহত তেল উত্তোলন। আবার ইরান ‘হরমুজ প্রাণালী’ বন্ধ করে দেওয়াতে জ্বালানী পরিবহন বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে বেড়েছে জ্বালানীর মূল্য। ফলে জ্বালানী সংকটের বিবেচনায় এই কঠিন সময়ে ঘুর ও বিকল্প পথে এয়ারলাইয়েন্স পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জ্বালানী তেল অধীক মূল্যে কিনে তা পরিচালনা করা এয়ারলাইন্সেগুলোর জন্য বাড়তি চাপ সেটা এয়ারলাইয়েন্সগুলো করবে কিনা সেটাও আরেক প্রশ্ন।
তৃতীয়ত: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক ব্যবসায়ীক ক্ষতি টাকার অঙ্কে বিপুল। আপাতত সেই হিসেব না করাই শ্রেয়। এর চেয়ে বরং সরাসরি আসি, এই ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবস্থা ও শ্রম বাজার পরিস্থিতির কি হবে সেদিকে। কারণ এর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিবস্থাও জড়িয়ে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড.ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, এমন যুদ্বকালের বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এবং ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে দিক নির্দেশনা জরুরি। আর সেটা দেশের অভ্যন্তর থেকেই সমন্বিত ভাবে করা উচিত। ‘সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের’ পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, এই মুর্হূতে উচিত হবে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিনে গড়াবে সেই দিকে নজর রাখা এর জন্য তৃতীয় পক্ষের তথ্য উপাত্তের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজ দেশের গোয়েন্দা তথ্য কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর দূতাবাস ও সেদেশে বসবাসরত ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের সাথে নিবিড় যোগযোগ রেখে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং এর ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বল্প, মধ্যম ও র্দীঘ মেয়াদে গড়ায় তবে সেই কর্মপরিকল্পনা করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষক বলছেন, দীর্ঘদিন তারা দেশের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্রাটেজি’র প্ল্যাটফর্ম গড়ার পুরানো তাগিদ তিনি নতুন করে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই রয়েছে বিভিন্ন এক্সপার্টদের নিয়ে গড়া ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্রাটেজি’। বাংলাদেশে জরুরি হলেও ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্রাটেজি’ নেই।
আজকের উপসাগরীয় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় পর্যায়ক্রমিক নানান ধাপে পরামর্শে প্রয়োজন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও নীতি নির্ধারকদের নিয়ে এই জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনায় ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্রাটেজি’র শক্তিশালী বডির অধীনে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি কনসোল’ করাটা জরুরি। তার মতে, বর্তমান যুদ্ধকালীন সময়ে নিজ দেশের জ্বালানী ও রেমিট্যান্স সুরক্ষায় নানান করণীয় নিয়ে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্রাটেজি’র ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি কনসোল’ দিকনির্দেশনা দিতে পারতো।
তবে এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এদেশের শ্রমিকদের নতুন কাজের সুযোগ তৈরী হবে। যুদ্ধ বিধ্বস্থত উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় শ্রমের যোগান দিতে অগ্রাধিকার থাকবে বাংলাদেশের শ্রমিক ও শ্রমবাজার। শেষ করছি ‘বিবিসি আর্ন্তজার্তিক সম্পাদ জেরেমি বোয়েন’ এর লেখনির একটি বন্তব্য দিয়ে—যা আমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ‘এই এক্সপ্লেনার যখন ‘অন এয়ারে’ যাবে ততক্ষনে হয়তো আরো ক্ষেপণানাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। খুব সম্ভবত যারা এখনো জীবিত আছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত মারা যাবে। তিনি বলছেন, এই যুদ্ধ কখন বা কিভাবে শেষ হবে সেই সিদ্ধান্তে পৌছানোর জন্য এখনো সেই সময় আসেনি। কারণ যুদ্ধ একবার শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা যুদ্ধ কখন এবং কিভাবে ইতি টানে আর সেটাই হবে নয়া ইতিহাস।







