তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক বৈঠক হতে পারে। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনটাই জানিয়েছে চারজন জ্যেষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিক ও এক মার্কিন কর্মকর্তা।
সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় ওই অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ অংশ নিতে পারে। চারটি সূত্রের মতে, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিজ নিজ প্রতিনিধিদলে থাকবেন।
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দুই সরকারি কর্মকর্তা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান। তাদের দাবি, যদি লক্ষ্য হয় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখা, তাহলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এ বিষয়ে তারা আশাবাদী।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নিতে পারে এমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কথা বলা তিনজন মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন, এখনও বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি এবং পরিবর্তন হতে পারে।
এক কূটনীতিক বলেন, এটি এখনও পাথরে খোদাই করা সিদ্ধান্ত নয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শুক্রবারের মধ্যেই ইস্তাম্বুলে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে, তবে খুঁটিনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আঞ্চলিক কূটনীতিকরাও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। দুইজন জ্যেষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিক জানান, আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে তুরস্ক এবং কাতার ও মিসর এতে সমর্থন দিচ্ছে।
আরেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, পাকিস্তান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তার মতে, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিও উঠে আসতে পারে।
যদি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়, তবে এটি স্টিভ উইটকফের জন্য ব্যস্ত এক সপ্তাহের সমাপ্তি হবে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, তিনি মঙ্গলবার ইসরায়েলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আবুধাবি যাবেন।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, উইটকফ–নেতানিয়াহু বৈঠকে ইরান ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে তিনি বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।







