মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এইচ-১বি ভিসার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য খাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা খাতে বিদেশি প্রশিক্ষিত পেশাজীবীদের সংখ্যা কমে যেতে পারে, যা আগামীতেও চিকিৎসক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলবে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমানে যেখানে এইচ-১বি ভিসার সর্বোচ্চ ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, সেখানে নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পর্যালোচনা করছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।
এইচ-১বি প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি দক্ষ কর্মীদের বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে নিয়োগ দিয়ে থাকে। মার্কিন স্বাস্থ্য খাত এই ভিসা ব্যবস্থার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট ও বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস (এএএফপি) জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজনই আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট। গ্রামীণ ও স্বল্পসেবা পাওয়া এলাকায় এদের উপস্থিতি আরও বেশি।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে সব সেক্টর মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ব্যক্তি এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, যার মধ্যে শুধু স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা খাতে ৫ হাজার ৬৪০টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।
আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এএমএ) বলেছে, ফি যদি ১ লাখ ডলারে পৌঁছায়, তবে আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এএমএ প্রেসিডেন্ট ববি মুখ্যমালা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চিকিৎসক সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি করা হলে, রোগীদের চিকিৎসা পেতে আরও বেশি অপেক্ষা করতে হবে এবং অনেক দূর গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন জানিয়েছে, ফি বৃদ্ধির ফলে বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। এতে অনেক হাসপাতালেই বিশেষজ্ঞ সংকট এবং দেশীয় কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) জানিয়েছে, এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রাম হাসপাতালগুলোকে অস্থায়ীভাবে দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী নিয়োগে সহায়তা করে। আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য এই ফি বৃদ্ধি থেকে ছাড় দেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ এমন এলাকায় বাস করে, যেখানে অর্ধেক চিকিৎসকই বিদেশে প্রশিক্ষিত।
কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে অনেক হাসপাতালই কর্মী সংকটে ভুগছে। ওহাইওহেলথ, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, সিডারস-সিনাই এবং ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যাম-এর মতো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনের এই পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তারা মূল্যায়ন শুরু করেছে।
২০২৫ থেকে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ৮৬ হাজার চিকিৎসকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আমেরিকান মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (এএএমসি)।







