ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারী ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ক্রেতারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দিকে ঝুঁকছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্যা ইকনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মেক্সিকো উপসাগরে উৎপাদিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভারী তেল মার্স সাওয়ার ক্রুড যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার বেশি দামে লেনদেন হয়েছে যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবারের (৫ মার্চ) তুলনায় দাম বেড়েছে ৪ ডলার। এক সপ্তাহ আগে এই প্রিমিয়াম ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫০ ডলার।
এ ছাড়া হেভি লুইজিয়ানা সুইট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস সাওয়ারসহ অন্যান্য ভারী গ্রেডের তেলের দামও বেড়েছে।
গত সপ্তাহে হামলার পর থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৯ ডলারে স্থির হয়, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকসহ কয়েকটি দেশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগর থেকে ভারী তেলের সরবরাহ কমে গেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, এসব তেলের ওপর নির্ভরশীল শোধনাগারগুলো বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারী তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে।
অর্থনীতিবিদ টিম স্নাইডার বলেন, শীত শেষে গাড়ি চলাচলের মৌসুম শুরু হওয়ায় তেলের চাহিদাও বাড়ছে। তবে মূলত যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্নই দামের উত্থানের প্রধান কারণ। তার মতে, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে না দেওয়া পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম বাড়তেই থাকবে।







