একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটির ভোটাররা আগামী ৫ নভেম্বর তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে ভোট দিবেন। নির্বাচনে লড়ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চোখ থাকে পুরো বিশ্বের। কারণ যে প্রেসিডেন্ট হবেন তার অনেক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বিশ্বের নানান বিষয়। দেশটির নির্বাচনের আগে তাই বিভিন্ন সমীক্ষা চলানো হয়ে থাকে যেখানে প্রার্থীদের প্রতি জনমত এবং জয়ের সম্ভাবনার একটি পরিসংখ্যান উঠে আসে। আর হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে সে সব বিষয়ে সবারই কম বেশি আগ্রহ থাকে।
জরিপে কে এগিয়ে রয়েছেন?
শুরু থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনের মাঠে নামে কমলা হ্যারিস। এসেই হ্যারিস ট্রাম্পের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। জাতীয়ভিত্তিক সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন হ্যারিস, বিপরীতে মাত্র এক শতাংশ কম সমর্থন ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিকে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিলেন হ্যারিস। পরে আগস্টের শেষে এসে তিনি চার পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যান। গত ১০ সেপ্টেম্বর এই দুই প্রার্থীর মধ্যে যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় তা প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ দেখেছিল। ওই বিতর্কের পর দুই জনেরই জনপ্রিয়তা তুলনমুলক স্থিতিশীল ছিল। গত কয়েকদিনে ট্রাম্প ও হারিসের মধ্যে এই ব্যবধান আরও কমে এসেছে। বিভিন্ন জরিপে সে সব চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট।
যদিও এই ধরনের জরিপ কোনো ভবিষ্যদ্বাণী বা কারও জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সঠিক মাপকাঠি নয়। কেননা ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন। যেখানে প্রতিটি রাজ্যে তার জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
জাতীয়ভাবে করা ফাইভ থার্টিএইটের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে হ্যারিসের সমর্থন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
আবার রাজ্যভিত্তিক জরিপে দেখা গেছে, পেনসিলভানিয়ায় হ্যারিসের সমর্থন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিক ট্রাম্পের সমর্থন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মিশিগান এবং উইসকনসিনে অবশ্য হ্যারিস তার প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। আবার হ্যারিসের চেয়ে জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনায় ২ শতাংশ এবং অ্যারিজোনায় ৩ শতাংশ এগিয়ে ট্রাম্প।
কিন্তু ২০১৬ এবং ২০২০ সালে ট্রাম্প জিতেছিলেন এমন একটি রাজ্য আইওয়াতে করা এক জরিপে দেখা গেছে হ্যারিস ট্রাম্পের থেকে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। রাজ্যটিতে হ্যারিসের সমর্থন ৪৭ শতাংশ এবং ট্রাম্পের সমর্থন ৪৪ শতাংশ। ডেস মইনেস রেজিস্টার সংবাদপত্র এবং মিডিয়াকম দ্বারা যৌথভাবে প্রকাশিত এই জরিপে দেখা গেছে, হ্যারিস নারীদের কাছ থেকে বিশেষ করে বয়স্ক এবং স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন গড়ে তুলেছেন।

এছাড়া, আরিজোনা এবং নেভাডা রাজ্যগুলোতেও একই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আরিজোনায় ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন, অন্যদিকে, নেভাডাতে হ্যারিস সামান্য এগিয়ে আছেন। এই সব রাজ্যের সামান্য ব্যবধান নির্বাচনের ফলাফলে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এসব রাজ্যের নির্বাচনী কলেজ ভোটই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।
কীভাবে জরিপ করা হয়ে থাকে?
বিভিন্ন জরিপ সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয়ভাবে এই নির্বাচনের গড় তৈরি করা হয়। টেক্সট মেসেজ, টেলিফোন কল বিভিন্ন মাধ্যমে এক ধরনের জরিপ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এসব জরিপের ক্ষেত্রে দেখা হয় কতজন ভোটার এই জরিপে অংশ নিয়েছে, কখন এই জরিপটি করা হয়েছে কিংবা কীভাবে এই জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।
জরিপের নির্ভরযোগ্যতা এবং সীমাবদ্ধতা
জনমত জরিপ বিভিন্ন কারণে বেশ নির্ভরযোগ্য হলেও, এতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া ইলেক্টোরাল কলেজ নির্ভর হওয়ায়, কেবল জাতীয় জনমতের গড় দিয়ে প্রকৃত বিজয়ীর পূর্বাভাস দেয়া কঠিন।
জরিপগুলোতে জরিপদাতাদের পূর্বের ভোট আচরণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার ওপর নির্ভর করে ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনের উদাহরণ অনুযায়ী দেখা যায়, বেশিরভাগ জরিপই কিছুটা নির্ভুল হলেও কখনো কখনো ভোটারদের আচরণ এবং ইলেক্টোরাল কলেজের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে ভুল হতে পারে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল যে জাতীয় জনমত জরিপ হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প নির্বাচিত হন।
এই মুহূর্তের জরিপ বলছে, কমলা হ্যারিস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত সুইং স্টেটগুলোতে খুব কাছাকাছি ব্যবধানে রয়েছেন। যখন এত কাছাকাছি ব্যবধান থাকে তখন কে জিতবে সেটি নিয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী করাও আসলে খুব কঠিন।








