আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান: ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে শার্লটে উত্তেজনা

বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী গ্রেফতার অভিযান: ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে শার্লটে উত্তেজনা

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার বৃহত্তম শহর শার্লটে ফেডারেল অভিবাসন দমন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। বিভিন্ন স্থানে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন এজেন্টদের হঠাৎ গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে। যেকারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন এই পদক্ষেপে শহরজুড়ে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিউজ এজেন্সির মতে, সহকারী হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেছেন, অবৈধ অভিবাসী ক্ষতি করবে এমন ভয় না করে আমেরিকানদের স্বাভাবিকভাবে বাস করা উচিত। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শার্লটে ডিএইচএস আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে সক্রিয় করছি।

শার্লটের মেয়র ভি লাইলসসহ কাউন্টি কমিশনার মার্ক জেরেল এবং স্টেফানি স্নিড এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই অভিযান শহরে অপ্রয়োজনীয় ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। আমরা শার্লট-মেকলেনবার্গের সব বাসিন্দার পাশে আছি।

শার্লট একটি জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় শহর, যেখানে ৯ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে অন্তত ১.৫ লাখ বিদেশি বংশোদ্ভূত।

ফেডারেল সরকার এই অভিযানের আগাম কোনও ঘোষণা দেয়নি। তবে মেকলেনবার্গ কাউন্টির শেরিফ গ্যারি ম্যাকফ্যাডেন জানান, দুইজন ফেডারেল কর্মকর্তা আগে থেকেই তাকে সতর্ক করেছিলেন, কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশনের সদস্যরা শিগগিরই শহরে অভিযান চালাবেন।

দ্বিভাষিক অলাভজনক সংগঠন ‘ফ্যামিলি-কামিনো’র মুখপাত্র পাওলা গার্সিয়া বলেন, শুক্রবার থেকে শার্লটের বিভিন্ন এলাকায় আসিই এবং সিবিপি এজেন্টদের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রচুর মানুষকে গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখছি। আমি নিজেই কাজে যাওয়ার পথে ঘটনাগুলোর সাক্ষী হয়েছি।

স্থানীয় সেবামূলক সংস্থাগুলো জরুরি প্রশিক্ষণ আয়োজন করছে যাতে অভিবাসীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ বড় শহরগুলোতে অপরাধ দমন ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে অনুরূপ অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এই পদক্ষেপে বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে এবং অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট গভর্নর জোশ স্টেইন বলেন, অভিযানে আটককৃতদের বেশিরভাগেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, এমনকি কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ভুলবশত আটক হয়েছেন। তিনি জনগণকে যেকোনো অনুপযুক্ত আচরণ মোবাইলে রেকর্ড করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ ঘোষণা করেছে, তারা ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগে অংশগ্রহণ করছে না এবং অভিযান পরিচালনায় তাদের কোনও ভূমিকা নেই।

বিষয়:গ্রেপ্তার অভিযান যুক্তরাষ্ট শার্লট

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…