বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশের ওপর থেকে ১১৫ শতাংশ করে শুল্ক কমাতে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। জেনেভায় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমিত করার লক্ষ্যে এবং আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে আরও তিন মাস সময় চেয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দুই দেশ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, ১৪ মে’র মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বেশিরভাগ চীনা আমদানির ওপর শুল্ক ১৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনবে। এই তালিকায় রয়েছে ফেন্টানাইল সংশ্লিষ্ট পণ্যও। অন্যদিকে, চীন মার্কিন পণ্যের ওপর তার ১২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামাতে রাজি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ফেন্টানাইল ইস্যুতে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই দ্বিধাহীনভাবে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য বাণিজ্য সম্পর্ক গড়তে চাই।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে একটি স্থায়ী কাঠামো গঠন করা হবে, যা উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।
এই চুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর থেকেই চীনা শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল, তবে সাম্প্রতিক অগ্রগতি বাজারে আস্থা ফিরিয়েছে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে “বাণিজ্য চুক্তি” বলে আখ্যায়িত করলেও এখনও এর নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমা স্পষ্ট নয়। চীন এর আগে দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন চলতি বছরে আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।







