হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ‘ফাস্ট বোট’-কে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাতটি ছোট নৌযান বা ‘ফাস্ট বোট’ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে ওয়াশিংটন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার (৪ মে) এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজে হামলার খবর দেয় ইউএই ও দক্ষিণ কোরিয়া। ইউএই জানায়, ইরানি হামলার পর ফুজাইরাহ তেল বন্দরে আগুন ধরে যায়।
এদিকে, শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানায়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি জাহাজ মার্কিন সামরিক নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে রাজনৈতিক সংকটের সামরিক সমাধান নেই। তিনি প্রজেক্ট ফ্রিডমকে প্রজেক্ট ডেডলক বলেও আখ্যা দেন।
মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। এর জবাবে ইরান এই জলপথে অবরোধ আরোপ করে, যার মাধ্যমে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও এখনও খুব কম জাহাজই এই প্রণালি পার হতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নিজেদের অবরোধ বজায় রেখেছে। তবে ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাদের দাবি, ফাস্ট বোট নয়, বরং দুটি ছোট কার্গো জাহাজে হামলা হয়েছে, যাতে পাঁচ বেসামরিক নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউএই জানায় তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনোক-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কারে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের একটি জাহাজে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। ফুজাইরাহ বন্দরে একটি হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই ঘটনাকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে আখ্যা দিয়েছে আবুধাবি এবং প্রয়োজনে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাজ্য সমর্থন অব্যাহত রাখবে ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা দিনের মধ্যে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের কারণে প্রায় ২ হাজার জাহাজে থাকা ২০ হাজার নাবিক ফেব্রুয়ারি থেকে আটকে রয়েছেন, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও নাবিকদের মানসিক-শারীরিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।







