আন্তর্জাতিক

গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ‘সরকার ফেলে দেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ

গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ‘সরকার ফেলে দেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েল এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যে কোনো দেশ চাইলে ধ্বংস করে দিতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

তবে গিলফয়েলের আইনজীবী এই প্রতিবেদনের বর্ণনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। গ্রিক সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, গ্রিসকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে এথেন্সে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নৈশভোজে গ্রিসের জ্বালানিমন্ত্রী স্তাভরোস পাপাস্তাভরুর সঙ্গে গিলফয়েলের তর্ক হয়। ওই সময় রোমানিয়া সরকারের পতনের প্রসঙ্গ উঠলে গিলফয়েল নাকি বলেন, ‘আমরা যে কোনো দেশের সঙ্গে এমনটা করতে পারি। এখানেও করতে পারি।’

জবাবে পাপাস্তাভরু বলেন, গ্রিসের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই সেই সরকারকে সরিয়ে দিতে পারে না বলে জানায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

তবে গ্রিক সরকারের কর্মকর্তারা পরে দাবি করেন, ওই অনুষ্ঠানে গ্রিসকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। গ্রিক সংবাদমাধ্যম কাথিমেরিনিকে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক কনস্তান্তিনোস কিরিয়াকাকিস বলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, ‘আমি ঠিক সেখানেই ছিলাম। গ্রিসকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।’

সরকারের মুখপাত্র পাভলস মারিনাকিসও বলেন, গ্রিক সরকারকে হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয়ই ছিল না। এমন কিছু হলে তা গ্রহণযোগ্য হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গিলফয়েলের আইনজীবী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ওই কথোপকথনের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

গ্রিসের জ্বালানিমন্ত্রী স্তাভরোস পাপাস্তাভরুসহ ও রাজনীতিবিদদের সাথে কিম্বার্লি গিলফয়েল

গ্রিসে এই ধরনের মন্তব্যের অভিযোগ বিশেষভাবে সংবেদনশীল। কারণ ২০১৫ সালে দেশটি ভয়াবহ ঋণ সংকটের মুখে পড়ে। কয়েক বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে দেশটির অর্থনীতি কার্যত ধসের মুখে পড়েছিল।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী রোমানিয়ার সরকার মে মাসে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী ইলিয়ে বোলজানের সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর পতন হয়। ভোটের আগে দেশটির মুদ্রার দাম ইউরোর বিপরীতে রেকর্ড পর্যায়ে নেমে যায়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গিলফয়েলকে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পর টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন। তিনি ফক্স নিউজেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে বাগদান করেছিলেন।

মনোনয়ন ঘোষণার সময় গিলফয়েল বলেছিলেন, গ্রিসে জন্ম নেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে প্রভাবিত করেছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়ন এবং গ্রিসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

বিষয়:ইলিয়ে বোলজানগ্রিসমার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলস্তাভরোস পাপাস্তাভরুহুমকি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…