ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ কঠিন হলেও ‘চমক’ দেখাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

আসিয়ান কাপ থেকে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে বাংলাদেশকে। কোচ থমাস ডুলি ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি, লক্ষ্য এবং বিভিন্ন সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ কঠিন হবে, তবে চমক দেখাতে প্রস্তুত থাকবে বাংলাদেশও।
ডুলি বলেছেন, ‘শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলার চেয়ে তাদের মাঠে ৭০ হাজার দর্শকের সামনে খেলাটা এবং তাদের গোল করার যে চাপ, তা অনেকবেশি। তবে ফুটবল বলেই এটি অনিশ্চিত এবং আমরা খেলাটিকে ভালোবাসি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই লড়াই করার চেষ্টা করব এবং দেখতে চাই কতদূর যাওয়া সম্ভব।’
‘এই আসর আমাদের জন্য শেখার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি দুর্দান্ত সুযোগ। ভুলগুলো থেকে খেলোয়াড়দের শিক্ষা নিতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে, কারণ রাতারাতি কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বরে আছি এবং মনে করি না যে আমরা এই পজিশনের যোগ্য। আমরা ১৫০-এর ঘরে উঠতে চাই। এর জন্য আমাদের এমন দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হবে যারা আমাদের থেকে ১০-২০ বা সামান্য এগিয়ে আছে। কিন্তু আমরা খেলছি তাদের বিপক্ষে যারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে ৩০, ৪০ বা ৫০ ধাপ এগিয়ে এবং শত শত পয়েন্টে এগিয়ে আছে। এটি আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে এটি একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।’
ইন্দোনেশিয়ার শক্তির জায়গা তুলে ধরে বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া দলের ফরোয়ার্ডরা বেশ লম্বা, শক্তিশালী এবং টেকনিক্যালি অনেক ভালো। তাদের ডিফেন্ডাররা আমার চেয়েও ২০ সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে। তাদের স্কোয়াডে অনেক ভালো দক্ষতার খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’
আসিয়ান কাপ মূলত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি জানিয়ে ডুলি বলেছেন, ‘এই ম্যাচগুলো মূলত আসন্ন সাফ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি। আমাদের দেশে বিশাল ফ্যানবেজ এবং কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে, কিন্তু সে তুলনায় পর্যাপ্ত খেলোয়াড় নেই, যা ইন্দোনেশিয়া বা ইউরোপে খেলা ফুটবলারদের সাথে বাংলাদেশের মূল পার্থক্য।’
‘সাফের টুর্নামেন্টে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান বা ভারতের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা দিতে হবে। এই টুর্নামেন্টের খেলাগুলো আমাদের শেখার জন্য। তবে যখন আমরা দেশে ফিরে সাফে মুখোমুখি হবো, তখন আমাদের লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’
‘আমার খেলোয়াড়রা মোটিভেটেড নয়— এমন কথা সম্পূর্ণ অসত্য। ফুটবল খেলায় মানসিকতা একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। আমরা যদি মিডিয়ায় নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে উপস্থাপন করি এবং প্রতিপক্ষ যদি আমাদের হালকাভাবে নেয়, তবে মাঠের খেলায় আমরা তাদের চমকে দিতে পারি। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে যেমন দ্বিতীয় বিভাগের দলও অনেক সময় জয়লাভ করে, কারণ বড় দলগুলো তাদের অবমূল্যায়ন করে।’






