এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
চীনের প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক খাতের ওপর চাপ বাড়িয়ে আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইডুসহ ১৮৮টি চীনা প্রতিষ্ঠানকে সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত কোনো চুক্তিতে অংশ নিতে পারবে না।
আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার (৮ জুন) পেন্টাগন তাদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনায় এই তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়। এর লক্ষ্য হলো এমন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করা, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশটির সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই তালিকায় প্রায় ১৩০টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও এবার তা বেড়ে ১৮৮টিতে পৌঁছেছে। নতুন সংযোজনের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইডু। এছাড়া রোবোটিক্স কোম্পানি ইউনিট্রিকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের মানবসদৃশ রোবটের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই আগেই পেন্টাগনের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। যদিও এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, তাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সামরিক খাতে ব্যবহার করা হতে পারে।
নতুন তালিকা প্রকাশের পর মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার তালিকাচ্যুত করা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, পেন্টাগনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। এক বিবৃতিতে বেইজিং অভিযোগ করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের দাবি, তাদের কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও বাণিজ্যিক নীতিমালা অনুসরণ করেই ব্যবসা পরিচালনা করছে।
চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এ ধরনের তালিকা প্রণয়ন বন্ধ করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে পেন্টাগনের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলিবাবা, বিওয়াইডি এবং বাইডুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।







