বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলামের রচিত গ্রন্থ ‘একাত্তরের ইতিকথা’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা মাওলা ব্রাদার্স।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম নয়, বরং এটি মানুষের চেতনা, চিন্তা ও জীবনবোধের গভীর পরিবর্তনের সময়। ‘একাত্তরের ইতিকথা’ স্বাধীনতা সংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা ইতিহাসকে গভীরভাবে অনুধাবনে সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, আত্মকথনধর্মী এ ধরনের গ্রন্থ ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি উল্লেখ করেন, লেখকের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পৃক্ততা বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, দলিলভিত্তিক ইতিহাস সংরক্ষণে এ ধরনের গ্রন্থ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও সমাজ-রাজনীতির সমন্বয়ে লেখা এ বই গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে এ ধরনের গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি বাস্তব প্রতিফলন।
নারী অধিকারকর্মী শিরিন পারভীন হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল মানবিক ও সামাজিক মুক্তির সংগ্রাম। এ গ্রন্থ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক হবে।
এছাড়া সাবেক সচিব মোহাম্মদ আলী ও সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক অন্তর্দৃষ্টির সমন্বয়ে রচিত এ গ্রন্থে ১৯৭১ সালের উত্তাল সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে।
এসএমসির সদস্য ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও ইতিহাসচেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লেখক ওয়ালিউল ইসলাম তার বক্তব্যে জানান, বইটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং সময়ের বাস্তবতার প্রতিফলন। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রশাসনিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএমসি ও এসএমসি ইএল-এর চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী তছলিম উদ্দিন খান, এসএমসি ইএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েফ নাসিরসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গ্রন্থ পরিচিতি, আলোচনা, বই থেকে পাঠ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।







