কানাডার টরন্টো শহরের স্থানীয় একটি হোটেলে কানাডা প্রবাসী লেখক মোস্তফা আকন্দ ও নেসার আহমেদ প্রনীত ফারাক গ্রন্থটির মোড়ক উম্মোচন করেন অন্টারিওর প্রভেন্সিয়াল পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় উপনেতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এমপি ডলি বেগম।
রোববার ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৮টায় শেষ হওয়া আড়াই ঘন্টার আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কানাডা প্রবাসী আসমা আহমেদ।
ফারাক গ্রন্থটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বহুল পঠিত বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলোর প্রাক্তন সাংবাদিক ও টরন্টো ভিত্ত্বিক অনলাইন পত্রিকা নতুন দেশের সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, ফারাক গ্রন্থটি লেখকদ্বয়ের প্যারেন্টিং বিষয়ের ওপর লিখিত একটি গবেষনামূলক গ্রন্থ যেখানে আমাদের প্যারেন্টিং এর চ্যালেন্জগুলোকে গল্পের ঢংয়ে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। গল্পগুলো সুখপাঠ্য। পড়তে পড়তে মনে হবে আমি এই শহরেরই কোন গল্পের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি আর মানসিক স্বাস্থ্য ও প্যারেন্টিং বিষয়ে শিখছি। এই শিক্ষণটা আমাদের ও আমাদের সন্তানদের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে সাহায্য করবে।
টরেন্টো প্রবাসী কবি, গল্পকার ও টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড এর স্পেশাল নিডস্ শিশুদের শিক্ষিকা সঙ্গীতা ইয়াসমিন বইটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, শুধু সন্তান জন্ম দিলেই বাবা-মা হওয়া যায়না। বাবা-মা হতে গেলেও কিছু দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ থাকা দরকার হয়। “ফারাক” অনেকটা গবেষণাধর্মী তথ্য সম্বলিত এবং বাস্তব ঘটনার প্রতিচ্ছবি নিয়ে রচিত গ্রন্থ। সেসব ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই আমাদের মত হাজারো বাবা-মা অন্তত নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে শিখবেন। এই গ্রন্থ পাঠে যদি নিজে থেকেই আমরা কিছু শিক্ষন নিতে পারি সেটা আমাদের সবার জন্য মঙ্গল। না-ও যদি পারি, তবুও আমরা আমাদের মুঁদিত চক্ষুকে মুক্ত করতে পারি! সুস্থ থাক জগতের সব সন্তান। সুখি হোক পরিবার। ঘুচে যাক সব দূরত্ব! যেখানে আছে ‘ফারাক’।
টরন্টোর বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন বলেন, কোন বই যে এভাবে লেখা যায়, আমি কখনো দেখিনি। বইটি প্যারেন্টিং এর ওপর লিখিত বই। কিন্তু লেখকদ্বয় গল্প বলেছেন আর প্যারেন্টিং শিখিয়েছেন। শেষে প্যারেন্টিং এর ওপর একাডেমিক আলোচনাও করেছেন। বইটি পড়া শুরু করলে আপনি শেষ না করে ছাড়তে পারবেন না। কমিউনিটির মানুষদের বইটি পড়া উচিৎ।
প্রথম আলোর সাবেক সাংবাদিক ও কানাডা প্রবাসী লেখক সুব্রত নন্দী বলেন, আমরা আগে জানতামই না যে প্যারেন্টিং বলে একটি বিষয় আছে। যাদের ক্ষতি হয়ে গেছে তাদেরতো গেছেই। আর আামাদের যাদের এখনো সুযোগ আছে, তারা যদি গুড প্যারেন্টিং করতে পারি তাহলে আমাদের বাচ্চাদের ক্ষতি হবে না। আমি মনে করি, সবাইকে বাচ্চাদেরকে সময় দিতে হবে। আমাদেরকে চাপিয়ে দেয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। মোস্তফা আকন্দ খুবই ভালো লেখেন। টরন্টোতে বাঙালীদের মধ্যে যে কয়জন ভালো লেখেন, মোস্তফা আকন্দ তাদের অন্যতম।
টরেন্টোর বিশিষ্ট সমাজকর্মী মোস্তফা কামাল বলেন, বাবা মা হিসেবে আমাদের চিন্তার জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে। তারা যেভাবে চায় সে মোতাবেক সহায়তা করতে হবে। তাহলেই দূরত্ব কমবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো মতামত ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টর এডভোকেট ও কানাডা প্রবাসী আক্তার মোসাম্মাৎ, ক্যানবাংলা টেলিভিশনের কর্ণধার ডঃ মোঃ হুমায়ন কবির চৌধুরী, পিল ডিষ্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড এর সিনিয়র শিক্ষক এমডি হাসান তারিক, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমেদ, বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী নাসিমা পারভীন ও মেফিল্ড হাইস্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্রী মেহরীন মুস্তারী প্রমূখ।








