নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং কূটনীতিকদের পরিবারকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকে ফিরিয়ে (পরিবার-বহির্ভূত ব্যবস্থা) নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
তবে ঢাকায় অবস্থিত হাই কমিশনসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাই কমিশন পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চরমপন্থী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকি এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি দাবি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিষয়টি কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাই কমিশন ও চারটি সহকারী হাই কমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের ও নির্ভরশীলদের ভারত ফিরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কূটনীতিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যরা কবে নাগাদ ফিরে আসবেন—সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে কতজন ভারতীয় কূটনীতিক কর্মরত রয়েছেন, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ‘পরিবার-বহির্ভূত’ পদায়ন ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, পাকিস্তানে বর্তমানে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘কোন সন্তান নয়’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে স্বামী বা স্ত্রী একসঙ্গে অবস্থান করতে পারেন।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছু উগ্রপন্থী ও চরমপন্থী উপাদানের সক্রিয়তা বেড়েছে এবং পাকিস্তানি ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ায় ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
ভারতীয় পক্ষ এর আগেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের প্রতি ঢাকার অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে বাংলাদেশ সরকার।
২০২৪ সালের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।








