মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে ইরানের এই সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে ১৩ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাবটি স্পন্সর করেছিল উপসাগরীয় কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এবং ১৩৫টি অন্যান্য দেশ সহ-স্পন্সর হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিল। কোনো দেশ বিপক্ষে ভোট দেননি।
নিউইয়র্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল এলিজন্ডো জানান, চীন ও রাশিয়া ভোট থেকে বিরত থাকলেও তারা বিপক্ষে ভোট দেয়নি, ধারণা করা হচ্ছে প্রস্তাবটি ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় তারা বিপক্ষে ভোট দেয়নি।
এলিজন্ডো আরও বলেন, এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসে সর্বাধিক দেশ দ্বারা সহ-স্পন্সর হওয়া খসড়া প্রস্তাব।
প্রস্তাবের মূল বিষয়, ইরানের হামলার নিন্দা করা, তাৎক্ষণিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও শক্তি সংক্রান্ত অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের দাবি।
এলিজন্ডো বলেন, প্রস্তাবটি অত্যন্ত স্পষ্ট; এটি এখন আন্তর্জাতিক আইনের অংশ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ইরান কি এর প্রতি সম্মান দেখাবে?
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, এমন কোনো পদক্ষেপ ইরান নিতে পারবে না। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি রুট দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে যায়। এই জলপথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। তবে তেহরানের দাবি, তারা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর নয়, বরং ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতেই আঘাত হানছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাবটি কিছুটা একতরফা হয়েছে। কারণ এতে ইরানের ওপর পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার বিষয়ে কোনো নিন্দা বা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইরান কতটা ইতিবাচক সাড়া দেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় রয়েছে।








