মরক্কোর রাজধানী রাবাতে বৃহস্পতিবার ২০ মে অনুষ্ঠিত ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে কেবল দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার প্রতি অটল থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা, নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশটি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে আরও গভীরভাবে গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ১৭৪ জন বাংলাদেশি সদস্যের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় সেই নীতির আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার ও নারীর ক্ষমতায়নের চলমান উদ্যোগগুলো টেকসই শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভুল তথ্য, ডিজিটাল হয়রানি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের চ্যালেঞ্জও ক্রমশ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনকে আরও কার্যকর করতে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এছাড়া বাংলাদেশ শান্তি সমর্থন কার্যক্রম প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিপসট)-এর মাধ্যমে প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য,মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ আয়োজনে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
একই দিন সন্ধ্যায় রাবাতের ফোর সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেখানে তিনি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।


