ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না বলে ঘোষণা করার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলো জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সাধারণ পরিষদের ১৪২টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ১০টি দেশ। তাদের মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ১২টি দেশ। সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল ফ্রান্স ও সৌদি আরব।
ফ্রান্স এবং সৌদি আরব কর্তৃক উপস্থাপিত সাত পৃষ্ঠার এই নথিতে “দুই-রাষ্ট্র সমাধানের কার্যকর বাস্তবায়নের ভিত্তিতে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের ন্যায্য, শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী নিষ্পত্তি অর্জনের জন্য গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার” আহ্বান জানানো হয়েছে।
এটি গাজায় সরকার পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি দল হামাসকে সকল জিম্মিদের মুক্ত করার নির্দেশ দেয় এবং শর্ত দেয়, গাজায় তাদের শাসনের অবসান ঘটাতে হবে এবং তাদের অস্ত্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ”।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির জন্য সৌদি-ফরাসি প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি ঔপনিবেশিক দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার অর্জনের জন্য সমস্ত প্রক্রিয়া সক্রিয় করারও আহ্বান জানিয়েছে।
২২শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে রিয়াদ এবং প্যারিসের যৌথ সভাপতিত্বে আসন্ন জাতিসংঘ শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং আরও বেশ কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জাতিসংঘের ১৪৬ জন সদস্য ইতিমধ্যেই একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে সমর্থন করলেও ফ্রান্স, নরওয়ে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যসহ আরও ১০ জন এই মাসের শেষের দিকে তাদের দলে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক ভোটের পর ইসরায়েল ঘোষণাটি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে অপমানজনক বলে নিন্দা করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে হামাসকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” না বলার প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, এই ভোট প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ পরিষদ কতটা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক সার্কাস।”
এই ভোটটি এমন এক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন ইসরায়েল বিশেষভাবে যুদ্ধাপরাধী আচরণ করছে। গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলার পাশাপাশি লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া এবং কাতারকে লক্ষ করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বেশ কয়েকটি মারাত্মক হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কাতারের প্রধান মধ্যস্থতাকারীর উপর হামলার জন্য ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছেন। যার ফলে দোহায় হামাসের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন, যারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত একটি নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি ইসরায়েলের নেতাদের অহংকারী বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনে যোগ দিতে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সময় হামলার সময় দেখা যায় দেশটি তাদের পথভ্রষ্ট করার পরিকল্পনা করেছিল।
শুক্রবার জাতিসংঘে দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ভোটাভুটির সময় গাজা উপত্যকার মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর ভারী কামান ও বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। ফলাফল ঘোষণার ঠিক পরেই শুক্রবার মৃতের সংখ্যা ৫৯ জনে পৌঁছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দখল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সপ্তাহে গাজার ৫০০ টিরও বেশি স্থান লক্ষ্য করে তারা পাঁচটি বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। তারা জানিয়েছে, “হামাসের অবকাঠামোতে আঘাত করার লক্ষে তারা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার গতি আরও তীব্রতর করবে”।







