গাজায় চতুর্থ দিনের মতো ইসরায়েলি বিমান হামলা চলমান রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে হামাস। হামলা-পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত ৯শ’র বেশি ইসরায়েলি এবং ৬শ’ ৯০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খাবার ও পানিসহ জরুরি পরিসেবা বন্ধ করে গাজাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলেছে ইসরায়েল। এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ফিলিস্তিনীদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাতে দেওয়ার জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জানা যায়, বিরতিহীনভাবে বিমান হামলার পাশাপাশি এবার পানি, খাবার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে গাজাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলেছে ইসরায়েল। শহরজুড়ে ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কিত মানুষের আহাজারি।
পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসছেন আরবলীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের হামলার জবাবে তাদের পদক্ষেপ কেবল শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দেবে। ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন হামাসের এক শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি তারা হুমকি দিয়েছে, নিরীহ গাজাবাসীর ওপর হামলা হলে উত্তরে তারা জিম্মি ইসরায়েলিদের হত্যা করবে।
ভূমধ্যসাগর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ইসরায়েল উপকূলের দিকে যাচ্ছে। তবে হোয়াইটহাউস জানিয়েছে, ইসরায়েলে মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইসরায়েলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলাদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হচ্ছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান।
গাজার বাইরে সহিংসতা না ছড়াতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইটালি। চলমান সংঘাত বন্ধে ওআইসিকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে না জড়ানোর জন্য ইরানকে সতর্ক করে মার্কিন শীর্ষ জেনারেল জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউন বলেছেন, তিনি চান না যে, এই সংঘাত আর বাড়ুক। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে কেউ যদি ইরানকে হুমকি দেয়, তাহলে তা হবে চরম বোকামি ও এর ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে।
গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলা থামাতে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হলে গাজায় চরম মানবিক বিপর্যয় শুরু হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মাহমুদ আব্বাসের উৎকণ্ঠার জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ গাজা উপত্যকায় জরুরি মানবিক সহায়তা সামগ্রী পাঠানোর জন্য সার্বক্ষণিক চেষ্টা করে যাচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধেও জাতিসংঘ নিরলস ভাবে কাজ করছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জো বাইডেন ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে দ্বিরাষ্ট্র তত্ত্ব বা টু স্টেটস থিওরি প্রদান করেছিলেন। সৌদি আরবও দ্বিরাষ্ট্রতত্ত্বের পক্ষে। তবে হামাসকে যারা সমর্থন করে এই হামলার জন্য তাদেরকেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।
ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ৩৬ ফিলিস্তিনি নারীর মুক্তির বিনিময়ে হামাসের ধরে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের নারী-শিশুদের মুক্তির বিষয়ে কাতারের মধ্যস্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তির জন্য কোনো আলোচনা হয়নি।
চলমান যুদ্ধ নিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে সমর্থন জানাচ্ছে বিভিন্ন দেশের জনগণ। ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার অপেরা হাউজে ইসরায়েলের পতাকার রঙে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। তবে নিউইয়র্কে ইসরায়েলি দূতাবাস এবং টাইম স্কয়ারের বাইরে প্যালেস্টাইনের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে অনেক মানুষ। এছাড়াও জর্ডানের ইসরায়েলি দূতাবাস ঘেরাও করেছে সেখানের নাগরিকরা। স্পেন, সাউথ আফ্রিকা, সিরিয়া, এবং কানাডার অটোয়ায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি দু’পক্ষের সমর্থনেই বিক্ষোভ হয়েছে।







