বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার যে পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তাতে অংশ নেবে না যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলো মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠিয়ে এই অবরোধ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে। তবে ব্রিটিশ সরকার সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, “আমরা সর্বদা অবাধ নৌচলাচল এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান করি। বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে এবং আমাদের দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই নৌপথটি খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আরোপ করা উচিত নয়।”
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে ফ্রান্স এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সাথে মিলে অবাধ নৌচলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে মিত্রদের সাথে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
হরমুজ প্রণালী ও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাথে যুক্তরাজ্যের এই মতবিরোধ দুই মিত্র দেশের সম্পর্কে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে স্বীকার করেছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু “উসকানিমূলক ও আপত্তিকর” মন্তব্য করেছেন।
স্ট্রিটিং বলেন, “আমরা সবাই এটা বুঝতে শিখেছি যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী বলেন তার চেয়ে তিনি কী করেন, সেটি দেখে তাকে বিচার করা উচিত।” তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের না জড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, “এই যুদ্ধ আমাদের বেছে নেওয়া নয়।” যদিও তিনি স্বীকার করেন যে ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্য মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ককে কিছুটা চাপের মুখে ফেলেছে, তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে দুই দেশের গণতান্ত্রিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল চলাচলের পথ, যার ওপর দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানির একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে ইরানের চরম উত্তেজনার জেরে এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের আগে আরেক ন্যাটো মিত্র জার্মানিও ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ন্যাটোর কোনো যুদ্ধ নয় এবং এটি ইউরোপের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই অস্বীকৃতি ট্রাম্পের অবরোধ পরিকল্পনাকে কূটনৈতিকভাবে বেশ বড় একটি ধাক্কা দিয়েছে।







