ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।
বিবিসি বাংলা ও আল জাজিরা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন মনে করিয়ে দেন যে ইউরোপীয়নরা ইতোমধ্যে ইরানের ‘হত্যাকারী’ শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানাই। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।”
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। তিনি ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
তিনি উত্তেজনা কমাতে মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস বলেন, তার দেশ সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে যে ইরানের উচিত “লক্ষ্যবিহীন” সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকা।
“আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জীবনের সুরক্ষার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি,” ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টজ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন।
তারা আরও বলেছেন যে তারা ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে সামরিক অভিযান স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য একটি জরুরি বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থনে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য “মারাত্মক পরিণতি” বয়ে আনবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। দেশটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছে।








