ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যকে আর এ ধরনের সহায়তা পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরীর একটি এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস ‘হাই রেডিনেস’ বা উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাজ্য, আমাদের এক সময়ের মহান মিত্র সম্ভবত সবচেয়ে বড় মিত্র অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।
তবে তিনি আরও বলেন, ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এখন আর আমাদের সেগুলোর প্রয়োজন নেই। আমরা এমন কাউকে চাই না যারা যুদ্ধ জয়ের পর এসে যোগ দেয়।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়তে শুরু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। তেহরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ইরানে প্রায় এক হাজার ৩৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা নিহত হওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। লেবানন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকেও হতাহতের খবর মিলেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বিতর্কিত বলে বিবেচিত এই যুদ্ধে যুক্তরাজ্য ধীরে ধীরে সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে। শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘাঁটির মধ্যে রয়েছে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি।
তবে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাদের যেকোনো পদক্ষেপ প্রতিরক্ষামূলক হবে।
সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্টারমার বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অভিযানে যোগ দিচ্ছি না। তিনি ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেন।
যুক্তরাজ্যে এই যুদ্ধ তেমন জনপ্রিয় নয়। জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান সারভেশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এই যুদ্ধকে অযৌক্তিক মনে করেন।
এদিকে শনিবার লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সামনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করে সংঘাত বন্ধের দাবি জানান।
অন্যদিকে গত সপ্তাহজুড়ে স্টারমারের সমালোচনা আরও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। গত ৩ মার্চ জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, আমি যুক্তরাজ্যের আচরণে সন্তুষ্ট নই।
স্টারমারকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা যে ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করছি, তিনি উইনস্টন চার্চিল নন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইউরোপীয় ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের থেকে কিছুটা সরে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার দিকে ঝুঁকছে।







