উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল মহারণ গড়ানোর আর বাকী কয়েকঘণ্টা। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ১৫তম শিরোপার অপেক্ষায় থাকা রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ১১ বছর ফাইনালে ওঠা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ইউরোপসেরার মুকুট অবশ্যই নিজেদের করে নেয়ার লক্ষ্যে নামবে ডর্টমুন্ড। তবে চ্যাম্পিয়ন না হয়ে রানার্সআপ হলেই আর্থিক লাভবান হবে ডর্টমুন্ড।
ডর্টমুন্ডের আর্থিক লাভ-লোকসানের হিসাবটি অবশ্য জড়িত জুডে বেলিংহামকে নিয়ে। এবারের মৌসুমে ডর্টমুন্ড ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন ইংলিশ তারকা। গতবছর জুনে ১০ কোটি ৩০ লাখ ইউরো দিয়ে বেলিংহামকে দলে নিয়েছিল রিয়াল। দলবদলের চুক্তিতে একটি শর্তও অবশ্য জড়িত ছিল, বেলিংহাম রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতলে, ডর্টমুন্ডকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (৩১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা) বোনাস দিতে হবে রিয়ালের।
সেই হিসেবে ফাইনালে জিতলে উয়েফার কাছ থেকে ২ কোটি ইউরো পাবে ডর্টমুন্ড। আরে হেরে গেলে রানার্সআপ হওয়ায় উয়েফার ১ কোটি ৫৫ লাখ ইউরোর পাশাপাশি বেলিংহামের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রিয়ালের কাছ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পাবে বুন্দেসলিগার ক্লাবটি। অর্থাৎ রিয়াল চ্যাম্পিয়ন হলে ২ কোটি ৫ লাখ ইউরো বেশি পাবে ডর্টমুন্ড।
সবমিলিয়ে এবারের আসরে ২১০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকার বেশি) প্রাইজমানি দেবে উয়েফা। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২ কোটি ইউরো (২৫৪ কোটি টাকা)। রানার্সআপ দল পাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইউরো (১৯৭ কোটি টাকা)। সেমিফাইনালিস্ট দলগুলো পাবে ১ কোটি ২৫ লাখ ইউরো (১৫৯ কোটি টাকা) করে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ৮ দলের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৬ লাখ ইউরো করে (১৩৫ কোটি টাকা)। শেষ ষোলোতে খেলা প্রতিটি দল পাবে ৯৬ লাখ ইউরো (১২২ কোটি টাকা)। আর গ্রুপপর্বে খেলা ৩২ দলের প্রত্যেকেই পাবে ১ কোটি ৫৬ লাখ ইউরো (১৯৯ কোটি টাকা) ইউরো করে।
মূলত ফাইনাল ম্যাচ জেতার জন্য চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২ কোটি ইউরো। আর ফাইনালে খেলার জন্য রানার্সআপ দল পাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইউরো। গ্রুপপর্ব থেকে শুরু করে আগের প্রত্যেকটি রাউন্ডের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও ঢুকবে দুই ফাইনালিস্টের একাউন্টে। এভাবে ধাপে ধাপে ওপরের পর্যায়ে ওঠা দল নিচের পর্যায়ে খেলে আসার জন্য ওই পর্যায় থেকে বিদায় নেয়া দলের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার পাবে।
এছাড়া প্রতিটি ম্যাচে জয়ী দল ২৮ লাখ ইউরো (৩৫ কোটি টাকা) করে পায়। ড্র করলে দুই দলের প্রত্যেকে পায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ইউরো করে (১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা)। হারা দলের জন্য অবশ্য কোনো অর্থ পুরস্কার থাকে না।
চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুম শেষে ক্লাবগুলো কত টাকা পাবে তা নির্ভর করে মার্কেট পুলের ওপর। সে হিসাবে বড় ক্লাব ও ছোট ক্লাবগুলোর আয়ে পার্থক্য দেখা যায়। এক্ষেত্রে উয়েফা টুর্নামেন্টে অতীত পারফরম্যান্সও দেখা হয়। রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সে হিসাবে সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করবে। রিয়াল চ্যাম্পিয়ন হলে অতীতে সবচেয়ে বেশি সাফল্যের জন্য ‘মার্কেট পুলের’ তালিকায় সবার ওপরে থাকায় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো (১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা)। সম্প্রচারস্বত্বের ভাগ, গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত উঠে আসা এবং ম্যাচ জেতা ও ড্র করার জন্য টাকা তো পাবেই। সব মিলিয়ে রিয়ালের আয় হবে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো (১ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা)।
একবার শিরোপা জেতা ডর্টমুন্ড এবার চ্যাম্পিয়ন হলেও অতীত সমৃদ্ধ না হওয়ায় রিয়ালের চেয়ে কম অর্থ পাবে। এবারের আসরে ২টি হার ও ৩টি ড্র করেছে জার্মান দলটি। সেকারণে চ্যাম্পিয়ন হলে প্রায় ৭ কোটি ৭৯ লাখ ইউরো (৯৯২ কোটি টাকা) পাবে তারা। এছাড়া মার্কেট পুল ও সম্প্রচারস্বত্বের ভাগ ও অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে দলটির আয় হবে প্রায় ১০ কোটি ২১ লাখ ইউরো (১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা)।








